০৮ জুন, ২০১৫ ০২:২৮
সাবেক স্পিকার, বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী আর নেই। রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে খুলনার ফারাজি পাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর ২০১২ সালের আগস্ট থেকে খুলনার বাসভবনেই ছিলেন তিনি।
সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
রোববার (০৭ জুন) এক শোক বাণীতে সংসদ পরিচালনায় রাজ্জাক আলীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন, “শেখ রাজ্জাক আলী সুষ্ঠুভাবে সংসদ পরিচালনা করতেন।”
প্রধানমন্ত্রী এক শোক বিবৃতিতে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অবদান জাতি চিরদিন গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
১৯৯১ সালে গঠিত পঞ্চম সংসদে প্রথমে ডেপুটি স্পিকার ও পরে স্পিকার নির্বাচিত হন শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির বিল পাস হয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী :
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শেখ রাজ্জাক আলীর জন্ম খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর গ্রামের এক ব্যবসায়িক মুসলিম পরিবারে ১৯২৮ সালের ২৮ আগস্ট। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে (১৯৫২) ও বাংলা সাহিত্যে (১৯৫৪) মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে তিনি খুলনা জেলা জজ কোর্টে ওকালতি শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা হাইকোর্ট বারের সদস্য হন। ১৯৬৪ সালে খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি খুলনা ল’ কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি সিটি ল’ কলেজ খুলনা, সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয় খুলনা, পাইকগাছা ডিগ্রি কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।
এ ছাড়াও তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ব্লাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র অংশগ্রহণ করতে সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি টেট্রা ক্যাম্পে চলে যান।
শেখ রাজ্জাক আলীর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি মওলানা ভাসানীর হাতে। প্রথমে ন্যাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি যোগ দেন জাসদে। ১৯৭৮ সালে বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন তিনি। ১৯৮৯ সালে এ দলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিএনপি’ করা হয় এবং সে বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে আইন প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। সে বছরই ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার নির্বাচিত হন।
১৯৯২ সালে তিনি শ্রীলংকার কলোম্বোতে প্রথম সার্ক স্পিকারস সম্মেলনে যোগদান করেন ও সার্ক স্পিকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালের শেষদিকে বিএনপি ছেড়ে কর্নেল অলি আহমদের সঙ্গে এলডিপি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণ করেন।
১৯৫৩ সালে ভাষাসৈনিক ও লেখিকা অধ্যাপক বেগম মাজেদার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ রাজ্জাক আলী।
আপনার মন্তব্য