সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ২০:০৯

বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার পদত্যাগ

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ পদত্যাগ পত্র পাঠান বলে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পদত্যাগপত্র পাঠানোর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আপিল বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হেয়ার রোডের জাজেজ কমপ্লেক্সের বাসভবনে নিয়ে যান ওয়াহহাব মিঞা।

গত বছরের ৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে গেলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার দেওয়া হয় আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে। এরপর থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর মধ্যেই ছুটিতে থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্যাডে পাঠানো ওই চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘ব্যক্তিগত কারণের’ কথা বলেছেন বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা।

তিনি লিখেছেন, “আমার অনিবার্য ব্যক্তিগত কারণ বশত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের পদ হইতে এতদ্বারা পদত্যাগ করিলাম।”

আওয়ামী লীগ আমলে ১৯৯৯ সালে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ওয়াহহাব মিঞা। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। ২০১১ সালে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাই কোর্টে দুই বছর পরে যোগ দিলেও ২০১১ সালে আপিল বিভাগের বিচারক পদে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে একই দিন নিয়োগ পেয়েছিলেন।

বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার পদত্যাগের ফলে আপিল বিভাগে এখন বিচারক থাকবেন চারজন। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম হবেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার চাকরি আছে আরও তিন বছর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলে আপিল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতে রায় এসেছিল; ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে মত জানিয়েছিলেন বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা। যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের সময় একমাত্র বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার দ্বিমত ছিল।

নানা নাটকীয়তার মধ্যে বিচারপতি এস কে সিনহা গত ১২ অক্টোবর ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর ওই দায়িত্ব পালনের ভার আসে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার ওপর। এরপর নভেম্বরে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞাকেই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেন রাষ্ট্রপতি।

বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতি আসে, যাতে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসায় তার সঙ্গে কাজ করতে চান না তারা।

বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা দায়িত্ব পালনকালেই অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপড়েনের অবসান হয়।

এই বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি সিনহা অভিযোগ তুলেছিলেন, সরকার বিচার বিভাগের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে চাচ্ছে।

অন্যদিকে ওই গেজেট গ্রহণ করে ওয়াহ্হাব মিঞা নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চের আদেশে বলা হয়েছিল, “এই গেজেট আমরা পড়েছি। বিধিতে সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি বজায় রাখা হয়েছে। আমরা এই বিধিমালা গ্রহণ করেছি।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত