নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ০০:১৮

দুর্নীতিবাজদের ইজ্জত রক্ষার দায়িত্ব সংসদকে নিতে হবে কেন: ইমরান

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের মৌলিক অধিকারের বিরোধী 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন' এর খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এই গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বিকালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা নাগরিকের স্বাধীনতা হরণকারী এই আইন অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান।

নতুন আইনের পক্ষে সরকারি কর্তাব্যক্তিদের সাফাই প্রসঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, "বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন ৫৭ ধারা খারাপ আইন ছিল, তারা এর পরিবর্তে এই আইনটি করেছেন। ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি, তখন তারা একে খারাপ বলেননি। তখন ৫৭ ধারার পক্ষে তারা সাফাই গেয়েছেন। এখন ৩২ ধারাকে ভালো বলছেন, যখন এটিও বাতিল হবে, সম্ভবত তখন তারা বলবেন এটি কত বাজে আইন ছিল!

তিনি বলেন, ৫৪ ধারা থেকে শুরু করে অনেক কালাকানুন আমরা দেখেছি। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে শুধু কালাকানুন বললে কম বলা হবে। এটি এমন একটি আইন, যা বাংলাদেশকে মধ্যযুগে পিছিয়ে নিয়ে যাবে। এই আইন কার্যকর করা হলে অন্ধকার যুগের সাথে বাংলাদেশের কোনো পার্থক্য থাকবে না।

ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, এই আইনের কুফল বোঝার জন্য আইনের লোক হওয়ার প্রয়োজন নেই। একজন সাধারণ মানুষও বুঝবেন, কোনো সরকারি অফিসে গিয়ে যদি কেউ ঘুষ খাওয়ার কোনো ছবি তুলেন বা ভিডিও রেকর্ড করেন, তবে ঘুষখোরকে ধরিয়ে দেবার চেষ্টার জন্য সচেতন মানুষটির ১৪ বছরের জেল আর ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা হবে। এমন আইন কি কোনো সভ্য সমাজে সম্ভব? সরকার কি দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায়?

"এই আইন করা হয়েছে গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরার জন্য, করা হয়েছে সিটিজেন জার্নালিজম বন্ধ করে দেয়ার জন্য। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করে দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজদের পথ প্রশস্ত করে দিতে।"

যে মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজরা মহান সংসদকে কলঙ্কিত করছে, তারা বলছে সাংবাদিকরা তাদের মান ইজ্জত নষ্ট করছে। মাদক ব্যবসায়ীর আবার ইজ্জত কিসের! এই মাদক ব্যবসায়ী, কালোবাজারি দুর্নীতিবাজদের মান-ইজ্জত রক্ষার দায়িত্ব এখন সংসদকে নিতে হচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে!"

এদিন গণজাগরণ মঞ্চকে সমাবেশ করতে বাধা দেয় সরকার। এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, "২০১৩ সাল থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আজকে এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দেয়া হচ্ছে, মাইক নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না।

"সাধারণ মানুষকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না, সব ধরণের প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে, একই সাথে সাংবাদিকদেরও গলা চেপে ধরা হয়েছে, যেন তারা কোনো দুর্নীতির খবর প্রচার করতে না পারে। কোনো খারাপ আইন করলে সে আইন কিন্তু রয়ে যায়। যারা এই আইন করেন, তাদেরকেও এর ভুক্তভোগী হতে হয়।"

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবিধান বিরোধী, জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, এই আইন গণবিরোধী। আমরা কোনোভাবেই এই আইন কার্যকর হতে দিতে পারিনা।

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্তের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা আকরামুল হক, ব্লগার বাকী বিল্লাহ, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) সভাপতি শাহজাহান সাজু প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত