১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ২০:৪৮
বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কেন পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্ন তুলে দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকার নাকি অনেক উন্নয়ন করেছে। শুনেছি, কেরানীগঞ্জে একটি আধুনিক কারাগার নির্মাণ করেছে। বেগম জিয়াকে সেখানের একটা কক্ষে দিলে তো পারতো। তিনিও আপনাদের উন্নয়নের কিছুটা ভাগ ভোগ করতে পারতেন। তাকে অন্ধকার কারাকক্ষে, স্যাঁতসেঁতে কারাকক্ষে কেন রাখা হয়েছে? তাকে কেন কাশিমপুর কারাগারে রাখা হলো না?
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি কি করবে তা আওয়ামী লীগ ঠিক করে দিতে চায়। বিএনপিকে ভাঙতে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন টালবাহানা করছে।
খালেদা জিয়া কেন জেলে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তার জন্য তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। কারণ সে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে কখনো হারেননি। তার জনপ্রিয়তার জন্য প্রতিপক্ষ আক্রোশে জেলে পাঠিয়েছে।
খালেদা জিয়ার জেলে যাবার পেছনে যে কারণ দেখানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২ কোটি টাকা বর্তমানে ৬ কোটি টাকা হয়েছে। সব টাকা ব্যাংকে আছে। একটি টাকা খরচ হয়নি। এই অর্থের সাথে বেগম জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার একমাত্র অপরাধ তিনি জনগণের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছে।
খালেদা জিয়া কারাগারে ডিভিশন পেতে তিন চার দিন সময় লেগেছে উল্লেখ করে হাফিজ বলে, 'কত নিষ্ঠুর প্রতিহিংসা পরায়ণ সরকার। বেগম জিয়াকে একটা ডিভিশন পর্যন্ত দেয়নি। যেখানে একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি তিনি জেলে গেলে সরাসরি ডিভিশন পান। কোর্টের কোন আদেশের প্রয়োজন হয় না। সাবেক এমপি সাবেক মন্ত্রী সবাই পান। আমিও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে জেল খেটেছি সরাসরি ডিভিশন পেয়েছি। আমাদের নেত্রীকে ডিভিশন দিতে কেন তিন চার দিন সময় লেগেছে।
বিএনপির কোনো জনপ্রিয়তা নেই- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাহলে বেগম জিয়ার রায়ের আগেই কেন রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশ পথে চৌকি বসিয়েছেন। কাক-পক্ষী শহরে আসতে দেননি কেন? প্রশ্ন করেন বিএনপির এই নেতা।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য