০৪ মার্চ, ২০১৮ ১৭:০৯
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার শিকার অধ্যাপক ড. মোহম্মদ জাফর ইকবাল আহত হওয়ার খবর নিজেই তিনি তাঁর স্ত্রী কে জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।
রোববার (৪ মার্চ) ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসকরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মোহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইয়াসমিন হক একথা জানান।
তিনি বলেন, “সাড়ে ৫টা পৌনে ৬টার দিকে আমাকে ফোন করেছে যে, ‘আমার উপর একটা হামলা হয়েছে। আমি সুস্থ আছি, এখন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে। আমি চাই না, তোমরা টিভি দেখে খবর পাও, এজন্য আমি তোমাকে বলছি। ব্লিডিং হচ্ছে, আমি যদি পরে কথা বলতে না পারি… আমি ফাইন আছি।”
পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসময় পুলিশের করার কিছু ছিল না। “স্টেজেই পুলিশ ছিল, কিন্তু একটি উন্মুক্ত মঞ্চে যদি কেউ একজন হঠাৎ করে কিছু বের করে, শত শত স্টুডেন্টস সবাই ফুর্তি করছে... তখন কিন্তু কিছু করার থাকে না।”
এসময় তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে পুলিশ থাকে। আমাদের কিন্তু অসম্ভব রকম প্রটেকশন দিয়েছে। আমি ফিল করি না যে এটার জন্য সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে ব্লেম করা, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ব্লেইম করা ঠিক হবে।”
হামলার সময়ের পরিস্থিতির বর্ণনা করে ইয়াসমিন হক বলেন, “এটা কিন্তু একটা মুক্তমঞ্চ, অনেকজন দাঁড়াচ্ছে… আমার মনে হয়, ওর কাছে যদি আরও বড় অস্ত্র থাকত, আঘাত আরও সিরিয়াস হতে পারত।”
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন সদস্য হামলাকারীকে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন জানিয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক ইয়াসমিন বলেন, “পুলিশ বেস্ট চেষ্টা করেছে, বাধা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, পুলিশ গত দুই বছর ধরেই ‘অসম্ভব আন্তরিকতার সঙ্গে’ তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
“ইনফ্যাক্ট, অনেক সময় জাফর ইকবাল ওদেরকে বলে, ‘আপনারা চলে যান, আপনারা কেন আছেন।’ ও ফিল করে যে ওকে বেশি গার্ড করা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইয়াসমিন হক বলেন, “তিনি এখানটায় নিয়ে আসার জন্য অ্যারেঞ্জ করেছেন। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে কাজ করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি নিজে ফোন করে শিক্ষকদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছেন।”
ইয়াসমিন হকের বাবাও আর্মি মেডিকেল কোরের একজন সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সেজন্য এখানে কমফোর্ট ফিল করি। জাফর ইকবাল সুস্থ আছেন। তার কেয়ার নেওয়া হচ্ছে। দেশের বাইরে পাঠানো হবে কি-না একজন আমার কাছে জানতে চেয়েছে। আমার পুরোপুরি ভরসা আছে এখানকার চিকিৎসায়।”
অধ্যাপক ইয়াসমিন বলেন, তার স্বামী মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন এবং শিগগিরই সুস্থ হয়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।
হামলা-হুমকিতে দমে না যাওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমাদেরকে গত দুই বছর না, বছরের পর বছর হুমকি দিচ্ছে, কাফনের কাপড় পাঠাচ্ছে, সব জিনিস বন্ধ করে আমরা কি জেলের ভেতরে থাকব? আমি মনে করি, আমরা আমাদের স্টুডেন্টসদের সঙ্গে ফ্রিলি ইন্টার্যাক্ট করব।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন হুমকির মধ্যে থাকা ড. জাফর ইকবালের উপর শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই হামলার শিকার হনকম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক।
পরে তাকে শিক্ষার্থীরা ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। আর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় পৌঁছেই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়।
বর্তমানে তিনি সজ্ঞান ও আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা।
আপনার মন্তব্য