নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৪৯

কোন কোটারই দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনও কোটারই দরকার নেই।’

বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন আসবে। এখন সংস্কার করলে আগামীতে আরেক দল আবারও সংস্কারের কথা বলবে। কোটা থাকলেই ঝামেলা। সুতরাং কোনও কোটারই দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা বাদ, এটাই আমার পরিষ্কার কথা।’

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিলেন।

চলমান আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‌দেখে দুঃখ লাগে, ছেলেমেয়েরা সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে কোটার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে। রোদের তাপে পুড়ে ওরা তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাদের অবরোধের কারণে মানুষ হাসপাতালে যেতে পারছে না। অফিস-আদালতে ঠিকভাবে যেতে পারছে না।’

তবে এসময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখে সরকারি চাকরিতে সুযোগ রাখার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলনকারীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তায় বসে থাকা। পড়ার টেবিল বাদ দিয়ে তারা রাস্তায় নেমে আসলো। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করেছিলাম। ফেসবুক-টুইটার ব্যবহার আমরাই শিখিয়েছিলাম। আর আমাদের বিপক্ষেই এখন এগুলোর অপব্যবহার করা হচ্ছে।

‘আমরাও আন্দোলন করেছি। কিন্তু এমন তো আমরা কখনও দেখিনি! একজন উস্কানি দিলো-একজন আন্দোলনকারী মারা গেছে। আর সবাই রাস্তায় নেমে এলো। রাত একটার সময় পর্যন্ত, গেটের তালা ভেঙে মেয়েরা বেরিয়ে এসেছে। এমনটা কখনও দেখা যায়নি। যদি তাদের কিছু হতো, এর জবাব কে দিতো।’

এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলার সঙ্গে যারা জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিসির বাসভবনে হামলা হলো। আমি নিজে ভিসির সঙ্গে কথা বলেছি। সব দেখে মনে হয়েছে পাকিস্তানি হানাদাররা ৭১’এ যেভাবে আক্রমণ করেছে, ঠিক একই কায়দায় ভিসির বাসভবনে হামলা করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। যে শিক্ষার্থীরা তাদের ভিসির বাড়িতে হামলা করতে পারে, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পারে না।

ঢাকা ১৩ আসনের সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলেন। সম্পূরক প্রশ্নে নানক বলেন, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন বিষয়ে। এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি মহল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এখনই এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত