১২ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:২১
ফেসবুক-গুগল-ইউটিউবের মতো ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ থেকে দেওয়া বিজ্ঞাপনের লেনদেন থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব কোম্পানি থেকে রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন।
একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে দেওয়া এ আদেশে সার্চ ইঞ্জিন গুগল, ইয়াহু, ই-কমার্সের আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম অ্যামাজন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সব প্লাটফর্ম থেকে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি, লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের লেনদেন থেকে উৎসে কর, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায় করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে রুলে এসব প্লাটফর্ম থেকে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি, লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের লেনদেনের বিপরীতে আদায়যোগ্য উৎসে কর, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটে অর্থ সচিব, আইন সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, গুগল, ইয়াহু, অ্যামাজন ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বিবাদীদের আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে এসব কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রস্তুত করা, প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ টাকা নিচ্ছে, তার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা ও সেই কমিটি দিয়ে বিগত ১০ বছরে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে।
গত ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সহ সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লবের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. কাউছার, মাজেদুল কাদের, সাজ্জাদুল ইসলাম ও অপূর্ব কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি মোতাহার হোসেন সাজু।
প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠান রিটকারী ছয় আইনজীবী।
আপনার মন্তব্য