সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ জুলাই, ২০১৮ ২১:৪৮

'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে'

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনগণের জন্য কাজ করার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

বক্তৃতার শুরুতেই কবিগুরুর গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে..।'

এ সময় তিনি বলেন, 'আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার নেই।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে'।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার।'

তিনি বলেন, 'এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে।'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভাগ্য যেদিন গড়তে পারবো, সেদিন নিজেকে সার্থক মনে করবো।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার বাবা সারাটা জীবন বাংলার মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার, ক্ষুধার হাত থেকে মুক্ত করার, শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আমি কাজ করছি। আমার জীবনের এই একটাই লক্ষ্য।'

তিনি বলেন, 'নানা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু আমি একটা লক্ষ্য নিয়েই চলেছি— আমার বাবার স্বপ্ন আমাকে পূরণ করতেই হবে।'

বক্তৃতার শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে..।' এ সময় তিনি আরও বলেন, 'আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার নেই।'

'এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে', বলেন তিনি।

দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়ে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের জনগণ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। ২১ বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। '৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সরকারের উচ্চ পদে চাকরি দিয়েছিল। আমরা ট্রাইব্যুনাল করে সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলুষযুক্ত হয়েছে। এই অপরাধীদের যখন আমরা বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছি তখনই যেন আমাদের উন্নয়নের দ্বার খুলে যায়— এটাই আমার উপলব্ধি।'

নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয় একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা এটা আরও কমাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।'

ভোটের অধিকার এখন জনগণের হাতে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই জনগণ ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই নৌকাকে ঠেকাতে চায়। তারা কি নৌকায় চড়বে না? এই নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সাড়ে ৬ হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটা নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আসলেই জনগণ কিছু পায়; তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে। আজ খাদ্যের জন্য হাহাকার নেই। খাদ্যের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের উন্নয়ন।

মাদক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকে থেকে দেশ, সমাজ ও যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। সেদিক দিয়ে চিন্তা করে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধাযুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ। জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমরা অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলার মানুষের জীবন সুন্দর করে যাব।

তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্য যেদিন গড়তে পারব; সেদিনই সার্থক হব। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু কোনোদিন নিজের আদর্শের কাছে হার মানি নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলুষযুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পথ পেয়েছ। উন্নয়নের গতিধারা সূচিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির সংস্কৃতির ওপর, ভাষার ওপর আঘাত বারবার এসেছে। এই জাতিকে জাতির জনক যেভাবে গড়তে চেয়েছিলেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। একটি মানুষও যেন কুঁড়েঘরে বাস না করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্পদ অন্যের কাছে বিক্রি করার জন্য রাজনীতি করিনা। ক্ষমতায় থাকি আর না থাকি দেশের মানুষের অধিকার সব থেকে বড়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি।

গণসংবর্ধনার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উন্নয়নের ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে একটি অভিনন্দনপত্র পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড ও ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত