২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:২৮
ঈদে 'সর্বস্তরের জনতার' সাথে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়, কিংবা বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়- প্রতি ঈদ এলেই টেলিভিশন-পত্রিকায় দেখা যায় এমন খবর। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও ঈদ পালন করতে ছুটে যান নিজ নিজ এলাকায়। তবে এবার ঈদে তার ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে।
এবার দেশের বাইরে ঈদ কাটবে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল অাওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রধানসহ প্রথম সারির বেশ কজন নেতার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ অনেক নেতানেত্রীই এবার ঈদ কাটাবেন দূর প্রবাসে।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে রওয়ানা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে থাকবেন তিনি।
নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে পরিবেশ বিষয়ক জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ দি আর্থ’ এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) পদক নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। ফলে তাদের ঈদও কাটবে নিউ ইয়র্কে।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য, ফিরবেন ঈদের পরে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও লন্ডনে গেছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদ করে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেশে ফেরার পথে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকলেও ঈদের আগে সোমবার দেশে ফিরেছেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল লন্ডনে গেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে।
এছাড়া বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, ওসমান ফারুক, আবদুস সালাম, এহছানুল হক মিলন, আবদুল আউয়াল মিন্টু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তারাও লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগ দেবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক হজে গেছেন। তাদের ঈদ হবে সৌদি আরবে।
ফলে এবার দেশে ঈদ হয়ে পড়বে অনেকটাই ভিআইপিবিহীন।
এদিকে, ঈদে দেে থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
পবিত্র ইদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটবাসীকে দেয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় মুহিত বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আযহা আমি আপনাদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবো না বলে খুবই দুঃখিত। সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আমি এই সময় বিদেশ থাকবো।
ঈদুল আযহা আমাদের ধর্মানুযায়ী বছরের একটি অন্যতম দিন। এই দিন হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হযরত ইসমাইল (আ.) কে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার ব্যবস্থা নেন। আল্লাহ তার আনুগত্য ও ত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে নবীর উদ্যোগকে বন্ধ করে দেন। যে ছেলেকে নবী ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দিতে চান সেই ছেলেকে জীবন্ত দেখে নবী আনন্দানুষ্ঠান করেন। আমরা এই আনন্দানুষ্ঠানকে স্মরণ করে পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করি।
তাই এই দিনে সকলের কাছে আমার আবেদন হবে যে, আমরা যেন সৎপথে থাকার প্রতিশ্রুতি করি এবং ত্যাগের আদর্শে উদ্দীপ্ত হতে পারি। আমার আর একটি প্রার্থনা হবে যে, আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করবেন যাতে আমরা সামষ্ঠিকভাবে আল্লাহর দেয়া যে সর্বশ্রেষ্ঠ দান যে জীবন সেই জীবনকে ভালভাবে উপভোগ করি। এই খুশীর সময় মানুষের ভেদাভেদ না মেনে সকলকে ভালবাসি এবং সকলের সঙ্গে উৎসব করি।
আপনার মন্তব্য