সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ অক্টোবর, ২০১৫ ০১:০৭

‘সন্তুষ্ট’ কূটনীতিকরা সারা দেশে বিদেশিদের নিরাপত্তা চান

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করতে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, বিদেশীদের নিরাপত্তায় যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাতে সন্তোষ জানিয়েছে কূটনীতিকরা।  

এদিকে, ঢাকায় কূটনীতিক কোরের ডিন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেন,  “বাংলাদেশ সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।”

‘সারা দেশে বিদেশিদের’ নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েই কথা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার তাদের নাগরিকদের প্রতি ‘সিকিউরিটি এলার্ট’ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা এবং আইএস এর ‘দায় স্বীকার’ নিয়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগের  প্রেক্ষাপটে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে আসেন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিদেশিদের জন্য সরকারের নেওয়া নিরাপত্তার আয়োজন সম্পর্কে ৪৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের অবহিত করেন।

বৈঠক শেষে কূটনীতিক কোরের ডিন রবার্ট গিবসন জানিয়েছেন, দুই বিদেশী হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।  

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা তদন্ত নিয়ে এখনই কোন পরামর্শ দিতে রাজি নয় বিদেশী মিশনগুলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীরা বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার কথা কূটনীতিকদের জানিয়েছেন।

মন্ত্রীরা বলেছেন, সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে তারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।    

“বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও তারা দিয়েছেন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগের বিষয় যে, বিশ্বে যখন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করা হচ্ছে, যেমনটি আমরা গত সপ্তাহে জাতিসংঘ অধিবেশনেও দেখেছি, এমন এক সময়ে একটি পক্ষ আবারও বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অর্জন নষ্ট করতে অস্থিথিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”    

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করেন এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।    

“মন্ত্রীরা জানান, একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে যে খবর এসেছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অবগত। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়গুলো দেখছে।”

ব্রিটিশ হাই কমিশনার সহিংস জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র প্রশংসা করেন এবং হত্যার ঘটনার পর সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেজন্য জাপানের রাষ্ট্রদূত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, র্যা বের মহা পরিচালক ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিং শেষে বেরিয়ে রবার্ট গিবসন বলেন, “যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কথা বলেছি।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে উদ্ধৃত করে হাই কমিশনার বলেন, সন্ত্রাসবাদ সবার জন্যই হুমকি; সুতরাং সবাই মিলেই এর সমাধান করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নিরাপত্তার যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে তারা ‘আশ্বস্ত বোধ’ করছেন। তবে সারা দেশেই নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন।

কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ের পর আইএসের ‘দায় স্বীকার’ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

জবাবে তিনি বলেন, “আইএসের কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি, তা জানিয়েছি। কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আমরা পাইনি।

“মার্কিন রাষ্ট্রদূত গতকাল বলেছেন, আজও বলেছেন, তারা চেষ্টা করছেন… এটা ঠিক কি না, এটা সম্পর্কে আর কিছু পাওয়া যায় কিনা।”

বাংলাদেশ ভ্রমণ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ যে সতর্কতা দিয়েছে, তা প্রত্যাহারের কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মাত্র কয়দিন হল জারি করেছে, আর মিটিংতো আজকে করলাম, ব্যবস্থা করতেতো সময় লাগবে।”

সরকার বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাফেরায় সতর্কতা জারি করে। হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, র‍্যাবের ডিজিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত