স্পোর্টস ডেস্ক

০১ জুলাই, ২০২৬ ০৮:০১

নিউ জার্সিতে ফরাসি রূপকথা: এমবাপের রেকর্ড আর ওলিসের জাদুতে বিধ্বস্ত সুইডেন

কিলিয়ান এমবাপের ইতিহাস তৈরি, মাইকেল ওলিসের জাদুকরী অ্যাসিস্টের রেকর্ড আর শোক কাটিয়ে ডাগআউটে ফেরা কোচ দিদিয়ের দেশমের আবেগঘন রাত—সবকিছু মিলিয়ে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দেখা গেল ফরাসি ফুটবলের নিখাদ ও নান্দনিক রূপ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সাথে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স।

আগামী ৫ জুলাই রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুতে সুইডেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বলের দখল, পাসের গতি আর আক্রমণের ধারে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে ফ্রান্স। ম্যাচের ৩–০ ব্যবধানও ফরাসিদের আধিপত্য পুরোপুরি বোঝাতে পারছে না। পুরো ম্যাচে ২৫টি শটের ১২টিই ছিল লক্ষ্যে, যার মধ্যে দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং অফসাইডের কারণে এমবাপের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, ৪৫ মিনিটে উসমান দেম্বেলের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বক্সের ভেতর সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের পর এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে এক ম্যাচ পর ডাগআউটে ফেরা কোচ দিদিয়ের দেশমকে জড়িয়ে ধরে উৎসবে মাতেন এমবাপেরা। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপে–দেম্বেলে জুটির যৌথ অবদান দাঁড়াল ছয় গোলে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো জুটির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয়ার্ধের গল্পটা সম্পূর্ণ নিজের করে নেন ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। গোল না পেলেও পুরো ম্যাচের আক্রমণের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা। ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত ও রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

৭৪ মিনিটে ওলিসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপে। দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে ওলিসের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়াল ৫-এ, যা ১৯৯৪ আসরের পর এক টুর্নামেন্টে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

এই স্মরণীয় রাতে ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ডবই ওলটপালট করে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা তাঁকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে বসিয়েছে; এখন লিওনেল মেসির চেয়ে তিনি মাত্র ১ গোল পিছিয়ে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ গোল করে তিনি এখন নকআউট ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন পেলে ও রোনালদো নাজারিওকে। এছাড়া চলতি আসরে ৬ গোল করে গোলদাতার তালিকায় মেসির পাশে বসেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

ম্যাচের ফল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ৮৫ মিনিটে এমবাপেকে যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারির ৮০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে এই ফুটবল জাদুকরকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ জানান। একই সাথে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে অন্তত ২টি এবং টানা ৫ ম্যাচে অন্তত ৩টি গোল করার বিরল কীর্তি গড়ল ফ্রান্স।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত