২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪১
ওভার প্রতি প্রায় ৮ করে রান দেয়া বোলারই নাকি কোন ম্যাচের শেষ চিত্রপটের নায়ক। হ্যাঁ এই ব্যতিক্রম ঘটনাই ঘটল মিরপুরে। আর সেই নায়কের নাম তাসকিন আহমেদ। প্রথম ৬ ওভারে বেধড়ক পিটুনি খাওয়া তাসকিন শেষ দুই ওভারেই ৪ উইকেট তোলে নিয়ে প্রায় হাতছাড়া হতে যাওয়া ম্যাচ বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। ফলে আফগানিস্তানকে ৭ রানে হারিয়ে সিরিজে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ।
অথচ দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে শুরুতে ছন্দ খুঁজে না পাওয়া বাংলাদেশ আইসিসি সহযোগী দেশ আফগানিস্তানের হারার শঙ্কায় পড়েছিল। এক পর্যায়ে ৮ উইকেট হাতে রেখে শেষ ২০ ওভারে ১২৫ রান দরকার ছিল আফগানিস্তানের। ক্রমশই টার্গেটকে নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আসা আফগানদের শেষ ৫ ওভারের দরকার ছিল মাত্র ৩৫ রানের। তবে এই রান শেষ পর্যন্ত নিতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা।
রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৬৬ রানের চ্যালেঞ্জ তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলতে থাকে স্টেনেকজাইয়ের দল। নূরকে নিয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামা শেহজাদই মূলত আগ্রাসন শুরু করেন। তাসকিনের এক ওভার থেকে ১৭ রান তোলে নেয়ার পর মাশরাফির বলে হাঁকান বিশাল ছক্কা। তবে এর পরেই বলেই মাশরাফি শেহজাদকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রো এনে দেন। বোলিংয়ে এসেই অপর ওপেনার নূরকে এলবিডব্লিও করে তিন ফরম্যাটে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েন। তবে এরপর থেকেই গল্পটা আফগান ব্যাটসম্যানদের। ডানহাতি রহমত শাহ ও বাঁহাতি হাসমতুল্লাহ শাহিদি ধীর স্থির ভাবে গড়ে তোলেন ১৪৪ রানের জুটি। তাদের এই জুটিতেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল বাংলাদেশের।
অবশ্য একাধিক বাজে ফিল্ডিংকে দায়ী করতেই পারেন বোলাররা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মত ফিল্ডারও শাহিদির সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। দারুণ বোলিং করেছেন সাকিব ও মাশরাফি তবে বিপরিত চিত্র ছিল রুবেল ও তাসকিনের। ইনজুরি ও বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফিরে আসা এই দুই পেসার প্রচুর আলগা বল দিয়েছেন, মারও খেয়েছেন বেধড়ক। তবে এই দুজনেই শেষ স্পেলে এসে ৫ উইকেট তোলে নিয়ে নিজেদের সামর্থের পরিচয় দিয়েছেন। অবশ্য এই দুজনের স্পেলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছেন সাকিব। তার করা ৪৭তম ওভারে মাত্র ১ রান নিয়ে চাপে পড়ে যায় আফগানিস্তান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া বাংলাদেশ শুরু ধাক্কা সামলে ভালোই খেলছিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ন সময়ে সেট ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে যাওয়ায় সংগ্রহকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিতে পারেনি। তামিম ৮০, রিয়াদ ৬২, সাকিব ৪৮ ও ইমরুল ৩৭ কাজ সমাপ্ত রেখেই আউট হন ফলে স্লগ ওভারে আফগান বোলারদের উপর যথেষ্ট চড়াও হতে পারেনি শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা। তবে শেষ পর্যন্ত ২৬৫ রানই আফগানিস্তানকে বেঁধে রাখার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ করলেন টাইগার বোলাররা।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিনে ব্যাটিংয়ে ৪৮ রান ও বোলিংয়ে২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫ (তামিম ৮০, সৌম্য ০, ইমরুল ৩৭, মাহমুউল্লাহ ৬২, সাকিব ৪৮, মুশফিক ৬, সাব্বির ২, মাশরাফি ৪, তাইজুল ১১, তাসকিন ২, রুবেল ১*; দৌলত ৪/৭৩, নাভিন ১/৬২, নবি ২/৪০, আশরাফ ১/৫১, রশিদ ২/৩৭)
আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৫৮ (নুরি ৯, শাহজাদ ৩১, রহমত ৭১, হাশমতুল্লাহ ৭২, নবি ৩০, নাজিবুল্লাহ ৭, স্তানিকজাই ১০, রশিদ ৭, আশরাফ ৩, দৌলত ২, নাভিন ০*; মাশরাফি ২/৪২, তাসকিন ৪/৫৯, সাকিব ২/২৬, রুবেল ১/৬২, তাইজুল ১/৪৪, মাহমুদউল্লাহ ০/২২)
ফল: বাংলাদেশ ৭ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান
আপনার মন্তব্য