২৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৯
এখনো বুঝতে পারছেন না—অন্যায়টা কোথায় হলো? ম্যাচের সময় অনেক ক্রিকেটারের মুখেই থাকে চুইংগাম। ক্রিকেটাররা বেশির ভাগ সময়ই ওই অবস্থাতেই মুখের লালা বলে লাগিয়ে ঘষে ঘষে এক পাশটা চকচকে করেন।
হোবার্টে ডু প্লেসিও করেছিলেন। কিন্তু সেটাই হয়ে গেল বল টেম্পারিংয়ের গুরুতর অপরাধ। আইসিসি তাঁকে এ ব্যাপারে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়েছে বলে অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের।
হোবার্ট টেস্টে মুখের চুইংগাম মেশানো লালা বলে মাখিয়ে বল চকচকে করার ব্যাপারটিই আইসিসির কাছে নিয়মতান্ত্রিক মনে হয়নি। একদিকে বলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে অন্য দিকটার উজ্জ্বলতা নষ্ট করে সুইং আদায় করা ক্রিকেটের পুরোনো কৌশল। এ কারণে খেয়াল করলে দেখবেন, বোলিংয়ের আগে যতবার বল হাত ঘুরছে ফিল্ডারদের মধ্যে, কেউ না কেউ এক প্রান্তে থুতু লাগিয়ে ট্রাউজারে ঘষছে। শুচিবায়ু থাকলে ব্যাপারটি আপনার নাও পছন্দ হতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটে এ এক পুরোনো কৌশল।
আইসিসিও এ ব্যাপারে ‘না’ করে না। কিন্তু এতে কেউ যেন অন্যায় সুবিধা না পায়, তারও নিয়ম করে দেওয়া আছে। আর সেখানেই যত বিপত্তি। ক্রিকেটের আইন নম্বর ৪২.৩ বলছে, বলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কোনো ধরনের কৃত্রিম পদার্থের সাহায্য নেওয়া যাবে না। অনেক সময় খেলোয়াড়েরা যেটা করেন, মিন্ট ধরনের চকলেট-চুইংগাম চিবোন। এতে মুখের লালা আরও তেলতেলে হয়। তাতে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সুবিধা হয়।
হোবার্টে ডু প্লেসি ললি ধরনের চুইংগাম মিশ্রিত লালা বলে লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আইসিসির। এর প্রমাণও মিলেছে ফুটেজ বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে। কিন্তু এই ‘কৃত্রিম উপাদানে’র সংজ্ঞাটি এখনো সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে।
বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ম্যাচ ফির পুরোটাই দিয়ে দিতে হয়েছে ডু প্লেসিকে। তবে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা পাননি। তবে এটা তো তাঁর জন্য একধরনের অপমান। তাঁর নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ডু প্লেসি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমি মনে করি কোনো অন্যায় করিনি। কোনো প্রতারণা কিংবা অন্যায় সুবিধা নেওয়ার ভাবনাও আমার ছিল না। আমি যা করেছি, সেটি মাঠে সব ক্রিকেটারই করে। ম্যাচের সময় আমাদের মুখে সব সময়ই মিষ্টি চুইংগাম থাকে। আমি মনে করি, এটি ক্রিকেটের আইন-কানুনের একটি বিভ্রান্তিকর জায়গা।’
আইসিসি তাঁকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে বলেই মন্তব্য করেছেন ডু প্লেসি, ‘আমি কেবল চাই এই জায়গায় সবাইকে একই চোখে দেখা হোক। আমি এটিই চাই। আইসিসি আমার বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নিয়েছে। আমাকে খুব সম্ভবত “বলির পাঁঠা” হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে সবাইকেই যেন আইসিসি একইভাবে মূল্যায়ন করে, আমাদের সবারই এ ব্যাপারে কিছু বলা উচিত।’
ডু প্লেসির কথাতেও যুক্তি আছে। তিনি বলতে পারেন, আমি তো বলে চকলেট-চুইংগামের রস লাগাইনি; লাগিয়েছি আমার মুখের থুতু। এ তো আর কৃত্রিম নয়। জেসন গিলেস্পি যেমন বলতে চাইলেন, ক্রিকেটের এই আইনটা পুরো মানতে চাইলে তো খেলোয়াড়দের পানি পানের বিরতির সময় নির্জলা জলই পান করতে হবে। এনার্জি ড্রিংকও তোনেওয়া চলবে না।
সৌরভ গাঙ্গুলীও এই বিতর্কের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, ‘এমন তো নয়, ডু প্লেসি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এমনটা করল। আর এও নিশ্চিত, ভবিষ্যতে আরও অনেকে এমন করবে।’
আর আইনের এই অস্পষ্টতার কারণেই কখনো কোনো আম্পায়ারের চোখে চুইংগাম চিবোনো অপরাধ, কখনো অপরাধ নয়। এ কারণেই এ নিয়ে হচ্ছে যত বিতর্ক। এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, এই গোলমেলে আইনটাকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কি না।
সূত্র: রয়টার্স
আপনার মন্তব্য