২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০২:২২
দলীয় ২৭ রানে বিদায় দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের। তখন শঙ্কায় বাংলাদেশ, এবারও বোধ হয় বড় হারের দেখাই মিলছে। কারণ এর আগে কিউইদের মাঠে ছয়বার নেমে দুইশতর কোটা পাড় করতে পেরেছিল মাত্র দুইবার। আর সব ম্যাচেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল টাইগারদের। তাই দুই সেরা ব্যাটসম্যানদের বিদায়ে ভীতই ছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতেই পাল্টে যায় সব। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ভড়কে দিয়েছিল কিউইদের। ২৮৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে কাপিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকদের। তবে মাহমুদউল্লাহর ১২৩ বলে বীরোচিত ১২৮ রানের ইনিংসটির মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেত যদি বোলাররা আরেকটু সংযমী হতে পারতেন। কিন্তু তারপরও নায়ক মাহমুদউল্লাহই।
কার্যত এটাই ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচের মূল দৃশ্যপট। তবে তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারকে নিয়ে যে ৯০ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ; তাতে সৌম্যর অবদান ৫১ রান। রানের দিকে আহামরি বড় কিছু না হলেও তার এ ইনিংসটি মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলনা। ২১ বছর বয়সী এ তরুণ তখন যেভাবে দারুণ সব শট খেলে কিউইদের নাস্তানুবুদ করেছিলেন তাতেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে টাইগারদের। এরপরই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের রসদ পেয়ে যান সাকিব-সাব্বিররা। শেষ মুহূর্তে হারের স্বাদ পেতে হলেও টাইগারদের লড়াই ক্রিকেট বোদ্ধাদের প্রশংসাই কুড়িয়েছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না সৌম্য সরকারের। চলতি বছরের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও রান খরায় ভুগছেন এ ক্রিকেটার। অথচ গত বছর অনেকটা স্বপ্নের মতই কাটিয়েছেন তিনি। তার ব্যাটেই পাকিস্তানকে প্রথমবারের মত ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা বধে তার ব্যাট চলেছিল তরবারির মত।
তবে নিজেকে ফিরে পেতে কঠিন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন সৌম্য। ক্যাম্পে অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনি। তার ফিরে আসার প্রবল ইচ্ছার কারণেই তাকে আগলে রেখেছেন কোচ-অধিনায়করা। অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচের পর নিউজিল্যান্ডে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও ইনিংসকে লম্বা করতে পারছেননা তিনি। হয়তো আজই হতে পারে সে দিন। কারণ কথায় আছে পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। আর সে পরিশ্রমটা বরাবরই করেছেন ও করে যাচ্ছেন সৌম্য। ভাগ্যদেবী এবার হয়তো মুখ তুলে চাইবে তার দিকে। আর তাহলে সৌম্য হবেন বাংলাদেশের তুরুপের তাস।
আপনার মন্তব্য