স্পোর্টস ডেস্ক

০২ জুলাই, ২০১৮ ১৭:২২

ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় মেক্সিকো

১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে টানা ৫ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা। নকআ‌উটে স্বপ্ন ভাঙার বেদনা সয়ে সয়ে যে মেক্সিকান মধ্যবয়স্করা ব‍ৃদ্ধ হয়ে গেছেন। যে যুবকরা পৌঢ় হওয়ার পথে। যে শিশুরা এখন পূর্ণ যুবক তাদের সবার প্রার্থনা এবার যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

একটি জয় তাদের পার করাতে পারে নকআউটের বৈতরণী। একটি জয় গড়তে পারে ইতিহাস। একটি জয় নিয়ে যেতে পারে স্বপ্নের ঠিকানায়। একটি মাত্র জয় পারে ২৪ বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গোণা মেক্সিকানদের লালিত স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ব্রাজিলের ফোর্টালেজার ম্যাচটিই কোটি মেক্সিকানদের কাঙ্ক্ষিত সেই ম্যাচ।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও রানার্স-আপ আর্জেন্টিনার বিদায়ে টুর্নামেন্টের এখন অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলকে পরাজিত করে নক-আউট পর্বের খরা কাটানোর এর থেকে ভাল সুযোগ আর হতে পারেনা বলেই বিশ্বাস করেন মেক্সিকান অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার আন্দ্রেস গুয়ারড্রাডো।

আজ রাতের ম্যাচে জিততে পারলে অন্তত ২৪ বছর পরে মেক্সিকানরা নিজেদের কিছুটা হলেও এগিয়ে নিয়ে যাবার আত্মবিশ্বাস পাবে। আগের ৬টি বিশ্বকাপেই তারা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল। বিশেষ করে চার বছর আগে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ইনজুরি টাইমে ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্মৃতি মেক্সিকো এখনো ভুলতে পারেনা।

এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের তাদের সেরা পারফরম্যান্স। তবে ১৯৭০’র আসরে ইতালির কাছে ৪-১ ও ৮৬ সালে পশ্চিম জার্মানির সাথে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র করে পেনাল্টি শুট আউটে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে শেষ আট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।

বিপরীতে ব্রাজিল শেষ ছয় আসরে অন্তত শেষ আট পর্যন্ত খেলেছে। এর মধ্যে তিনটির ফাইনালে পৌঁছে দুটির শিরোপা জয় করেছে। রাশিয়ায় ষষ্ঠবারের মত শিরোপা জয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই তিতের দলকে সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মানা হচ্ছে। কিন্তু সেলেসাওদের বিপক্ষে নিজেদের প্রত্যাশাকে প্রাপ্তিতে রূপ দেবার স্বপ্নে বিভোর মেক্সিকানরা।

জয় ভিন্ন অন্য কোন কিছুই ভাবছেনা পুরো দল, এমন আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে গুয়ারড্রাডো বলেছেন, ‘এখানে আমরা কোন ধরনের কারণ এখানে দেখাতে চাচ্ছিনা। আমরা যদি জিততে পারি তবে সবকিছুই আমাদের পক্ষে আসবে। আমরা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ১৬’তে সুইজারল্যান্ডের মোকাবেলা করতাম, (সুইসদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি) তাদেরকে হারালে মানুষ ততটা উচ্ছ্বসিত হতো না, যতটা ব্রাজিলকে হারালে হবে।

সে কারণেই ব্রাজিলের বিপক্ষে একেবারে সঠিক সময়ে আমরা মাঠে নামছি। তারা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন, ম্যাচটা দারুণ উপভোগ্য হবে। ফুটবল আমাদের সামনে যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা নিয়ে আমরা দারুণ উত্তেজিত। এর থেকে ভাল সুযোগ আর হতে পারেনা।’

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে গুয়ারড্রাডো বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে সামনে নিয়ে এসেছেন। তার মতে নেইমার নিজের থেকেই ফাউলকে কাছে টেনে আনে ও মাঠে পড়ে যান। তবে ব্রাজিলের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কাসেমিরো বলেছেন সব ধরনের চাপ ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই নেইমার মাঠে নামেন। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘নেইমারই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন।

প্রথম ম্যাচে সবাই যেখানে নিয়মমাফিক ম্যাচ খেলেছে সেখানে নেইমার বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছেন। সার্বিয়ার বিপক্ষেও সে দারুণ পারফর্ম করেছে। সে জানে কিভাবে চাপের মধ্যেও স্বাভাবিক ভাবে খেলতে হয়। সে কারণেই সে নেইমার, ব্রাজিলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। দীর্ঘ সময় ধরে সে সুপারস্টার থাকবে।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে এফ-গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্বে গেছে মেক্সিকো। বহিষ্কারাদেশের কারণে তাদের দলে থাকছে না সেন্টার ব্যাক হেক্টর মোরেনো। অন্যদিকে সার্বিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১০ মিনিট পরে কাঁধের পেশীর টানের কারণে মাঠ ত্যাগ করা মার্সেলোকে নিয়ে এখনো দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে ব্রাজিল।

বেশীরভাগ মেক্সিকান নেইমার ও কৌতিনহোকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তাদের ভুলে গেলে চলবে না ব্রাজিলে আছেন পাওলিনহো। সার্বিয়ার বিপক্ষে তার গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল সেলেসাওরা।

এর আগে ব্রাজিল ও মেক্সিকো একে অপরের বিপক্ষে ৪০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ২৩ বার ও মেক্সিকো ১০ বার। এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে চারটি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি মেক্সিকো। ঐ চার ম্যাচে মেক্সিকানরা একটি গোলও করতে পারেনি। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারেনি ব্রাজিল।

এ পর্যন্ত গত ১৪টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে সেলেসাওরা। ২০১৭ সালের জুনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা সর্বশেষ পরাজিত হয়েছিল (১-০)। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী ম্যাচ (৫৬) খেলার অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্বেও এখনো শিরোপা জিততে পারেনি মেক্সিকো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত