স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৭

মাশরাফির প্রেরণায়ই চোট নিয়ে মাঠে নামেন তামিম

এশিয়া কাপে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ম্যাচের একদিন পেরিয়ে গেছে। তবে ওই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। যথারীতি আলোচনার শীর্ষে তামিম ইকবালের ওই সাহসী সিদ্ধান্ত। হাতে চোট নিয়েও ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়া।

কি করে এমন সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন তামিম- এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজ চলছে এখনও।

এ প্রসঙ্গে তামিম জানিয়েছেন, অধিনায়ক মাশরাফির অনুপ্রেরণায়ই মাঠে নামার সাহস পান তিনি।

তামিম বলেন, ‘মাশরাফি ভাই (মাঠে ফেরার) আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। সারাক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ব্যান্ডেজ করা আঙুলের জন্য গ্লাভসও কেটে দিয়েছেন। কিন্তু মুশফিক তখন নন–স্ট্রাইকে থাকায় সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতে হয়েছে।’

শনিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে কবজিতে চোট পেয়েছিলেন দ্বিতীয় ওভারে। ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেন, হাসপাতালেও যেতে হয়েছে। এ অবস্থায় তামিমের মাঠে ফেরার কথা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি। কিন্তু সবাইকে বিস্ময়ে বিমূঢ় করে তামিম মাঠে ফিরে লিখেছেন বীরত্বের এক হিরণ্ময় ইতিহাস।

তামিমের এই সাহস, দেশের জন্য নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার মানসিকতা এখন ক্রিকেট ইতিহাসের রূপকথাগুলোরই অংশ। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। কিন্তু তার পেছনের গল্পটা কী?

জানা গেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে তামিমকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা দলেরই ছিল। তবে এই সিদ্ধান্তে অধিনায়ক মাশরাফির অনুপ্রেরণা ছিল সবচেয়ে বেশি। অষ্টম উইকেট পড়ার পর সিদ্ধান্ত হয় আরেক উইকেট পড়লে এবং মুশফিক যদি স্ট্রাইকে থাকেন, তাহলে তামিম মাঠে ফিরবেন। সহজ হিসাব—মুশফিক স্ট্রাইকে থাকলে তামিমকে চোটগ্রস্ত আঙুল নিয়ে ব্যাট করার ঝুঁকি নিতে হবে না। তামিম নন-স্ট্রাইকে থেকে মুশফিককে সঙ্গ দেবেন আর মুশফিক একা ব্যাটিং করে বাকি কাজটুকু সারবেন।

কিন্তু সহজ হিসাবটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে নবম উইকেট (মোস্তাফিজ) পড়লে। মুশফিক তখন নন–স্ট্রাইকে। আর ওভারের এক বল বাকি। অধিনায়ক মাশরাফির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন আর মাঠে নামার কথা নয় তামিমের। আর ২২৯ রানেই গুটিয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

মাশরাফি কিন্তু তার আগেই তামিমের মাঠে নামার জোগাড়যন্ত্র সেরে রেখেছিলেন। দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় তামিমের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে গ্লাভস পরা সম্ভব হতো না। মাশরাফি তাই নিজেই তামিমের বাঁ হাতের গ্লাভসের তালুর অংশ কেটে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ওভারে মুশফিক নন–স্ট্রাইকে থাকায় মাঠে ফেরার সিদ্ধান্তটা তামিমের একার কাঁধে চলে আসে। মানে, তামিমকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি মাঠে ফিরবেন কি না। এই পরিস্থিতিতে তামিমকে চেনেন এমন যে–কেউই বুঝতে পারবেন সিদ্ধান্তটা কার।

বাঘা বাঘা পেসারের নিখুঁত লেংথের ডেলিভারি কিংবা ভয়াল গতির বাউন্সারকে সীমানাছাড়া করতে তামিমের কখনো বুক কাঁপেনি। তাহলে সামান্য দুটি আঙুলের ভাবনায় দেশের জন্য নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার এই সুযোগ তিনি হারান কীভাবে! বুক চিতিয়ে লড়াই করাটা তামিমের মজ্জাগত। আর তাই সেই মুহূর্তে মাঠে নামার সিদ্ধান্তটা তামিমের একার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘মোস্তাফিজ ওই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ায় মুশফিক নন–স্ট্রাইকে ছিল। সিদ্ধান্তটা তাই আমাকে নিতে হয় এবং আমি একটা বলের মুখোমুখি হয়ে মুশফিককে স্ট্রাইকে পাঠাতে চেয়েছি।’

সতীর্থদের তামিম তখন বলেছেন, আমি গিয়ে এক বল খেলব। আমি যাব। ব্যস, বাকিটা ইতিহাস। মাশরাফি সেই ইতিহাস গড়ার মন্ত্রণাদাতা, তামিম কারিগর।

চোট, ব্যান্ডেজ নিয়ে তামিমের মাঠে ফেরার সেই সিদ্ধান্তের জন্যই মাশরাফি বলেছেন, লোকের উচিত তামিমকে মনে রাখা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত