২২ জুন, ২০১৯ ২৩:৫৬
মোহাম্মদ নবী যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ আশায় ছিল আফগানিস্তান। কিন্তু মোহাম্মদ শামির বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পথে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন আফগানিস্তানের জয়ের ভাগ্যও। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে মোহাম্মদ শামির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ১১ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। কিন্তু এই জয় পেতে ভারতের ঘাম ছুটে গেছে। নবীর আউটের পর কোহলি-পান্ডিয়ার বুনো উল্লাসে বুঝা যায় এই জয় পেতে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্বোধ্য পথ।
শনিবার (২২ জুন) দিনের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইনিংসের প্রথম থেকেই দুর্বল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের দুর্বলতার চিত্র ফুটে উঠে। বিশ্বকাপের তুলনামূলক ছোট দলের বিপক্ষেই রান তুলতে হিমশিম খেয়েছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলটি আফগানদের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২৪ রান করতে সমর্থ হয়।
শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলীয় ৭ রানে ইনিংসের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে আফগান স্পিনার মুজিবুর রহমানের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা। এরপর বিরাট কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন অন্য ওপেনার লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৫৭ রানের জুটি গড়েন। ৫৩ বলে মাত্র ৩০ রান করে মোহাম্মদ নবীর স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাহুল।
তৃতীয় উইকেটে বিজয় শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে ৫৮ রান যোগ করেন বিরাট কোহলি। ৪১ বলে ২৯ রান করতেই রহমত শাহের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বিজয় শঙ্কর। এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় ভারত। ৬৩ বলে ৬৭ রান করা বিরাট কোহলিকে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ নবী। পঞ্চম উইকেটে কেদার যাদবকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
টেস্টের আদলে ব্যাটিং করে যাওয়া ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ধোনিকে সাজঘরে ফেরান রশিদ খান। তার আগে ৫২ বলে মাত্র ২৮ রান করার সুযোগ পান ধোনি। ব্যাটসম্যানদের এই যাওয়া-আসার মিছিলে শেষ দিকে একাই লড়াই করে যান কেদার যাদব। তার ৬৮ বলের ৫২ রানে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৪ রান তুলতে সক্ষম হয় ভারত। আফগানিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নবী ও গুলবাদিন নাইব।
২২৫ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২০ রানে ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাইয়ের উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ২৪ বলে মাত্র ১০ রান করে ফেরেন জাজাই। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে রহমত শাহকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। এই জুটিতে তারা ৪৪ রান যোগ করেন। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন নাইব। তার আগে ৪২ বলে দুটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন তিনি।
চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা হাসমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন রহমত শাহ। এরপর শূন্য রানের ব্যবধানে যশপ্রিত বুমরাহর বলে আউট হয়ে ফেরেন রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ। ৬৩ বলে ৩৬ রান করেন রহমত শাহ। আর ৪৫ বলে ২১ রান করার সুযোগ পান হাসমত।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরানোর আগেই বিপদে পড়ে যান সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। তিনি যুজবেন্দ্র চাহালের লেগ স্পিনে শিকার হন। এরপর নজিবুল্লাহ জাদরানকে সঙ্গে নিয়ে অবনদ্য ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথেই রাখেন মোহাম্মদ নবী। তাদের এই জুটি ভাঙেন হার্দিক পান্ডিয়া।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২১ রান। ৪৯তম ওভারে যশপ্রিত বুমরাহ মাত্র ৫ রান খরচ করেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে মোহাম্মদ সামির করা প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকান মোহাম্মদ নবী। এই বাউন্ডারি হাঁকানোর মধ্য দিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন দেখে আফগানিস্তান।
সামির করা ওভারের দ্বিতীয় বল ডট। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন মোহাম্মদ নবী। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। পরের দুই বলে আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমানকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক করেন সামি।
আপনার মন্তব্য