১৮ মে, ২০২০ ০৪:৫৮
ভূমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় শিক্ষক ছাড়া আরও তিন নারী হয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুদৎপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে ওই রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজ্ঞাপন
আহত চারজন হলেন- শিক্ষক আছাদ আহমদ বাপ্পি (২৮), তার মা হেনা বেগম (৫০), মামী মিনা বেগম (৬০) ও মামাতো বোন সাফিয়া বেগম (৪০)। ওই রাতে তাদের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখানে হেনা বেগম ছাড়া বাকি তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুদৎপুর গ্রামের মনির মিয়ার ছেলে সুমন আহমদ (২০), মৃত ফাতির আলীর ছেলে পচাই মিয়া (৪২) ও মৃত আনফর আলীর ছেলে মাতাব উদ্দিন (২৪)। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে রোববার দুপুরে বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ, স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আছাদ আহমদ বাপ্পি বর্ণি ইউনিয়নের মুদৎপুর গ্রামে তার নানা বাড়িতে থাকেন। তিনি ওই এলাকার একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সেখানে তার নানার বাড়ির সাথে একই গ্রামের জবরুল ইসলাম গংদের ভূমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বাপ্পির সাথে জবরুলদের মনোমালিন্য হয়। এর জেরে শনিবার (১৬ মে) জবরুলের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় আছাদ আহমদ বাপ্পির নানা বাড়িতে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনসহ বেশ কয়েকজন হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে বাপ্পিকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। বাপ্পিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা হেনা বেগম, মামী মিনা বেগম ও মামাতো বোনো সাফিয়া বেগমকে পিটিয়ে জখম করা হয়। রাতেই স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রাতে আহত সাফিয়া বেগম বড়লেখা থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার (১৭ মে) রাতে মুঠোফোনে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায়। এরপর মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাদের আদালাতে পাঠানো হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
আপনার মন্তব্য