কুলাউড়া প্রতিনিধি

১৮ মে, ২০২০ ২৩:৩৯

কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় করোনাজয়ী কুলাউড়ার স্বাস্থ্যকর্মী জাবের

মহামারি করোনাভাইরাসের সাথে টানা ২২ দিন যুদ্ধ করে জয়ী হলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার স্বাস্থ্যকর্মী আহমেদুল কবির জাবের। তিনি উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাঘটিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে দায়িত্বে ফিরে যেতে প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন জাবের।

আহমেদুল কবির জাবের বলেন, করোনা পজেটিভ খবর পাওয়ার আমাদের সমাজের অনেকের করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাবের কারণে একটু মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও নিজের আত্মবিশ্বাস হারাইনি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নুরুল হকস্যারসহ সহকর্মী ও ভাই বন্ধুরা আমাকে সাহস জোগিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনতার মাধ্যমে এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ। কিছুদিনের মধ্যে আমি আবার কর্মস্থলে যোগদান করবো । আমার পরিবারও সুস্থ।

তিনি বলেন, করোনায় ভয় নয় সচেতন হলেই আমরা করোনাকে প্রতিরোধ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মুহুর্তকে স্পর্শ বা অনুভব করাটাই জীবন। কারণ জীবন কোন রিউইন্ডস বা ব্যাক টু দ্য বিগিনিং নাই। তাই আমাদের উচিত অতিরিক্ত স্মৃতি মন্থন বা আগামীর আশায় বসে না থেকে আজকের দিনটাতে ভাল থাকা। আমার অসুস্থতার খবরে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ যারা প্রতিনিয়তই খোঁজখবর নিয়েছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

করোনা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে তাঁর হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল ডাক্তার, সকল স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকর্মীরা জাবেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থকর্মীরা স্বাস্থ্যসেবাসহ সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব প্রতিনিয়ত পালন করছেন। তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডাররে দায়িত্ব পালনের সময় কমিউনিট ট্রান্সমিশনে করোনা আক্রান্ত হন আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী জাবের। তিনি বলেন, যেহেতু কোন উপসর্গ ছিলোনা তাঁর তাই হোম আইসোলেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সে এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং আবারো নিজ দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।

জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ৫ মে তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাকে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন গিয়ে ওইদিনই তার বাসা লকডাউন করে। এরপর ৫ মে পুনরায় জাবেরসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানা হয়। ১৬ মে জাবেরসহ তার পরিবারের সকলের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত