১২ অক্টোবর, ২০২০ ২১:০৬
রোববার ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ফোন করা হয়েছিলো রায়হান আহমদ (৩৩)-এর মা সালমা বেগমকে। ফোন ধরেছিলেন চাচা ও সৎ বাবা হাবিবুল্লাহ চৌধুরী। রায়হান নিজেই ফোনে কথা বলেন। আর্তনাদ করে টাকা নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসার জন্য চাচাকে অনুরোধ করেছিলেন রায়হান। ফোন পেয়েই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান হাবিবুল্লাহ চৌধুরী।
হাবিবুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, ফাঁড়িতে গেলে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এক পুলিশ সদস্য। কিছুক্ষণ পর আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের লাশ দেখতে পান তিনি।
ওইদিন কারা ছিলেন পুলিশ ফাঁড়িতে? কারা নির্যাতন করেছেন রায়হানকে? টাকাইবা চেয়েছিলেন কারা?- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
তবে সে রাতে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ফাঁড়িতে উপস্থিত ছিলেন বলে শনাক্ত করেছেন হাবিবুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রায়হানের বাড়িতে যান সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় এসআই আকবকর হোসেন ভূঁইয়ার ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন হাবিবুল্লাহ।
তিনি বলেন, সকালে ফাঁড়িতে যাওয়ার পর এক পুলিশ সদস্য আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চান। এসময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এসআই আকবর। তখন তিনি সাদা পোষাকে ছিলেন ও মুখে মাস্ক পড়া ছিলো। তিনি আমাকে বলেন- রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরাও সেখানে আছে। আপনি হাসপাতালে চলে যান।
এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন। এই ঘটনার পর সোমবার আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মহানগর পুলিশ। একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, রোববার ভোরে রায়হানের মার কাছে টাকা দাবি করে ফোনটি করা হয়েছিলো বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার মোবাইল থেকে। রোবারবার থেকে মিডিয়ায় বিষয়টি আলোচিত হতে থাকলেও সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হয়।
এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে রায়হানের পরিবারে কল করা হয়েছিলো। তবে ফোন করে ঠিক বলা হয়েছিলো, টাকা দাবি করা হয়েছিলো কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রায়হান হত্যার ঘটনায় রোববার মধ্যরাতে স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদি হয়ে কতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করলেও ফাঁড়ির ভেতরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হানকে হত্যৌা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোববার ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে কাষ্টঘর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে গণপিটুনির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে পুলিশ কাউকে ধরে নিয়ে আসারও প্রমাণ নেই সিসিটিভি ফুটেজে।
রায়হান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।
আপনার মন্তব্য