২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৮:৪৫
সিলেটের বন্ধ পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে টানা তিনদিনের ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁচেছে। এই ধর্মঘট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃত দিয়েছেন সিলেটের ১০জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ আহুত এই ধর্মঘটকে আদালত অবমাননার শামিল বলে বিবৃতি মন্তব্য করেছেন তারা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয় শাহ শাহেদা আক্তার স্বাক্ষিরত বিবৃতিতে বলা হয়- সিলেটের পাথর কোয়ারী খুলে দিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেয়ার দাবিতে পাথর ব্যবসায়ীরা পূর্ব ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সমাবেশ করেছেন। বর্তমানে ৭২ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট করছেন পরিবহন মালিকরা। আদালতের কোনো নিদের্শনা বা রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরণের কার্যক্রম আয়োজন, অংশগ্রহণ ও সমর্থন আদালত অবমাননার শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়- আদালতের অবমাননাকর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কোনো কার্যকর ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। একইসাথে বেআইনি কার্যক্রম প্রতিহত করে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাচ্ছি।
বেলা সিলেটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার ছাড়াও অন্য বিবৃতিতে সাক্ষর করেন সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ মাহমুদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, ব্লাস্টের সমন্বয়ক মো. ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সনাক সভাপতি সমিক শহিদ জাহান,
আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, সিলেটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরীন আক্তার, মনিপুরি সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ কে শেরাম সভাপতি ও পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুল করিম কিম।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলন করার কারণে সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারী থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত। ২০০৫ থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৯৬ জন শ্রমিক মারা যান এবং আহত হন ৩৫।
আপনার মন্তব্য