শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার

৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৯

রোগী নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না তাদের

হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু পথে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে থেমে গেল তাদের সেই যাত্রা। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জে ট্রাক-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের পর দুটি গাড়িতেই আগুন লেগে যায়।

এতে মাইক্রোবাসটি পুরো ভস্মিভূত হয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে এখন ৪ জন লাশ। এরমধ্যে মাইক্রোবাসের চালকসহ ৩ যাত্রী ও ১ শিশু রয়েছেন। গাড়িতে আগুনে পুড়ে চালকসহ নিহত হন তিন যাত্রী। আর সিলিন্ডারের টুকরো পড়ে নিহত হয় পাশের বস্তির শিশু।

নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বারইগ্রামের মৃত কুনু মিয়ার ছেলে রাজন আহমদ (২৭), একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ও মাইকোবাস চালক সুনাম আহমদ (২৬) এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রফিপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়ার শিশু পুত্র হাসান আহমদ (৮)।

অপরদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ওপর জনের পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। তবে নিহত ওই ব্যক্তি কানাইঘাটের গাছবাড়ির মারজান আহমদ বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গুরুত্ব আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন মাহিন আহমদ (১৭) নামের এক যুবক। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জুনেদ আহমদ জানান, বুধবার ভোরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মাহিন আহমদ নামের এক রোগী নিয়ে বাড়ি ফিরার পথে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোল্লাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ট্রাকের পেছনে নোহা মাইক্রোবাসটি ধাক্কা দেয়। তাদের প্রতিবেশীদের কাছে থেকে শোনেছি রাতে মাহিন আহমদকে নিয়ে হাসপাতালে যান সুনাম-রাজন ও মাহিনের পরিবারের সদস্যরা। ভোরে ৪টার দিকে মাহিনকে নিয়ে বাড়ি ফিরার পথে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জে ট্রাক-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের পর দুটি গাড়িতেই আগুন লেগে যায়। এতে মাইক্রোবাস ও ট্রাকের ভেতরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুনে পুড়ে মাইকোবাসের চালকসহ তিন যাত্রী নিহত হন। বর্তমানে আহত মাহিনের অবস্থান সংকটাপন। আজ বাদ আছর নামাজের জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নিহত সুনাম ও রাজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা, বাবা ও আত্মীয়-স্বজনদের হৃদয় বিদারক আহাজারি। একসঙ্গে এলাকার দুজন যুবকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। তাদের নিহত হওয়ার খবরে তার বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা।

নিহত মাইক্রোবাস চালক সুনাম আহমদের পিতা আব্দুল জলিল জানান, সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশ না গিয়ে সুনাম মাইক্রোবাস চালাত। আমার ছোট ছেলে নাইম আহমদও সিএনজি (সিএনজি চালিত অটোরিকশা) চালায়। আমার দুই ছেলের রোজগারে আমার পরিবার চলত। সবে মাত্র একটু একটু করে সচ্ছলতা ফিরে আসছিল সংসারে। শুরু হয়েছিল সংসারে উন্নতির পালা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল আমার ছেলে সুনাম।

সিলেট জেলা পুলিশের গোলাপগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের ভেতরের চালক-যাত্রীসহ ৩ জন মারা যান। আর সিলিন্ডারের টুকরো ছিটকে পড়ে পাশের বস্তির এক শিশু মারা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একশো ফুট দুরে সিলিন্ডারের টুকরো ছিটকে গিয়ে ওই শিশুটিকে আঘাত করে। নিহতদের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আহতদের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত