৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৪২
বর্তমান সরকার জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার এলাহাবাদ আলীম মাদ্রাসায় কৌশলে জামাত-শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তেলীকোনা গ্রামের উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুখলিছুর রহমান। দীর্ঘদিন থেকে তিনি অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া মাদ্রাসায় ‘ইত্তেহাদুল র্কুরা বাংলাদেশ’ নামে জামায়াত-শিবিরের ক্বিরাত প্রশিক্ষণের নামে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। গোপন বৈঠকসহ মাদ্রাসায় জামায়াত-শিবিরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এই উপাধ্যক্ষ। এতে বাধা দিলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একই গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আবু তাহেরের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চারিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অধ্যক্ষ ও তার পরিবারসহ এলাকাবসীকে হয়রানীও করে যাচ্ছেন ঐ উপাধ্যক্ষ।
বুধবার (৩০ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে এলাকাবাসীর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগসহ আরও নানা অভিযোগ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণাইঘর গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো: মাসুক মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তেলীকোনা গ্রামে ১৯৭০ সালে এলাহাবাদ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্টা করেন তেলীকোনার মরহুম মাওলানা ওলিউর রহমানসহ এলাকাবসী। এরপর ২০০৪ সালে সরকার মাদরাসাটিকে আলিম পর্যন্ত উন্নীত করেন। ১৯৯৫ সালে একই গ্রামের মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ হোসাইন অধ্যক্ষ হিসেবে মাদ্রাসায় যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৫বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মাদরাসাটি পরিচালনা হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুখলিছুর রহমান জামায়ত-শিবিরের জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেছেন।
আররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট গঠন করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওলিউর রহমান দীর্ঘদিন জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম চালিয়েছেন। বর্তমানে তার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান, আমিনুর রহমানের টাকায় উপাধ্যক্ষ জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যে কারণে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দেন অধ্যক্ষ।
কিন্তু দীর্ঘ তদন্তর পর থানার ওসি শামিম মুসা দতন্ত রিপোর্টে মাদরাসায় জামাত শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে প্রতিবেদন দাখিল করনে। এর আগে অধ্যক্ষ গত ১০ নভেম্বর বিশ^নাথ থানায় ৫১৮ নং জিডি এন্ট্রি করলে এএসআই সাইদুল ইসলাম দতন্ত করে কোন স্বাক্ষ প্রমান পাওয়া যায়নি বলে আরও একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে সার্জেন্ট মাসুক মিয়া (অব:) বলেন, বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ব্যাতিত অন্য যে কোন গোয়েন্ধা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে জামাত-শিবিরের রাষ্ট্র বিরোধি কার্যক্রমের তদন্ত করা হলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, সরকারি বিধান মতে ৬লক্ষ টাকা প্রতিষ্টানে দান করে প্রতিষ্টাতা হওয়া যায়। কিন্তু মুখলিসুর রহমান শিক্ষক কোন অনুদান না দিয়ে জোরে ক্ষমতা বলে প্রতিষ্টাতা হওয়ায় কৌশল অবলম্বন করছেন। মাদরাসা প্রতিষ্টাকালিন সময়ে মরহুম হাজি হুশিয়ার আলী, তমিজ উল্লাহ, আব্দুন নুর প্রতিষ্টাতা হলেও তাদের নাম মুছে দিচ্ছেন মুখলিসুর রহমান। মাদরাসার ভবণ নির্মানের জন্য বর্তমান সরকার ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ করলে বর্তমান মাদরাসার জায়গা রয়েছে ১১ শতক এবং এই ১১ শতক ভুমি মুখলিসুর রহমানের ঘরের বাউন্ডরির এরিয়োয় থাকায় তিনি বিভিন্ন কৌশলে এখানে ভবণ নির্মাণ করে মাদরাসাটিকে জামাত-শিবিরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেছেন।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সাজানো হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন শিবির নেতা তেলিকোনা গ্রামের মৃত রাশিদ আলীর ছেলে ফারুক আহমদ। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদরাসায় ‘সরকারি চাকুরি করে ইউনিয়ন কাজির দায়িত্ব পালন করা বেআইনি’ দাবি করে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও দায়ের করেন ফারুক। কিন্তু মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৯ এর ১৯/২০ বিধিতে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের বিধিতে কাজির দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে। এহেনও অব্যাহত চাপের কারনে অধ্যক্ষ ব্রেনস্টুকও করেছেন।
মাদরাসার আয় ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে মুখলিসুর রহমান ও জামাতিরা বিভিন্ন দফতরে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহনি ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত আখ্যায়িত করে বলা হয়, ক্রয় উপ কমিটি, অডিট কমিটি এবং গভর্নিং বডিতে যথাযতভাবে এসবের অনুমোদন রয়েছে। মুলত অধ্যক্ষ আবু তাহের ফুলতলী সমর্থক হওয়ায় এবং মুখলিসুর রহমানসহ জামাত-শিবিরের গোপন প্রশিক্ষণ জিহাদী কার্যক্রমে আপত্তি করায় আবু তাহেরের বিরুদ্ধে তাকে মাদরাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অচিরেই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের দিয়ে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলী, গভনিং বডির সদস্য আরজু মিয়া, মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা নিজাম উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, আবুল হোসেন, সুলতান আলী, তারেক আহমদ, আফাতাব মিয়া, ক্বারি ওলীউর রহমান তালুকদার।
তবে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুখলিছুর রহমান এসকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট লন্ডনের একটি চ্যারেটি সংস্থা। সেখান থেকেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদ্রসায় জঙ্গি দেননি দওযা হয়নি দাবি করে উপাধ্যক্ষ বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার বড় অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অধ্যক্ষ এখন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করাচ্ছেন। ‘ইত্তেহাদুল র্কুরা বাংলাদেশ’র মাধ্যমে প্রতি রমজান মাসে মাদ্রাসায় দারুল ক্বিরাত পরিচালনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের দায়েরকৃত তিনটি অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা-কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব, বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা ও এসআই নূর হোসেন তদন্ত করে জামায়াত-শিবিরের কোন সম্পৃক্তা না পেয়ে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য