৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:৪৩
সিলেট নগড়জুড়েই ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। সংস্কারকৃত ও সংস্কার কাজ চলা এসব ড্রেনের বেশিরভাগই ফেলে রাখা হয়েছে উন্মুক্তভাবে। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কাজ চলা এলাকায় নেই সতর্কবার্তাও।
গত ৭ ডিসেম্বর নগরের আম্বরখানা এলাকায় নির্মাণাধীন এরকম একটি ড্রেনে পড়ে যান প্রবীণ শিক্ষক ও ছড়াকার আবদুল বাসিত মোহাম্মদ। এসময় ড্রেনে বেরিয়ে থাকা রড তার পেটে রড ঢুকে যায়। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
আব্দুল বাসিত মোহহাম্মদের মৃত্যুতে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। উন্নয়নের নামে নগরজুড়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর এই মরণফাঁদ তৈরি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরবাসী।
তবে ক্ষোভ আর প্রাণহানি সত্ত্বেও টনক নড়েনি সিসিকের। এখনও কোনোরুপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই চলছে উন্নয়ন কাজ। যেখানে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে বেরিয়ে আছে সিসিকের 'উন্নয়নের রড'। এতে আরও হতাহতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিলেট নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়ক। এই সড়কের সংস্কার ও সম্প্রসারণ করছে সিসিক। সড়কের মধ্যখানে বিভাজক বসিয়ে চৌহাট্টা এলাকার কিছু অংশের সৌন্দর্যবর্ধণ করা হয়েছে। তবে সড়কের বাকী অংশে বিভাজকের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভারে রড় পুঁতে রাখা রয়েছে। রড পুঁতে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বরের আগে এই সড়কের চৌহাট্টা এলাকার শহীদ মিনারের আশপাশের এলাকায় বিভাজকের (ডিভাইডার) মধ্যে কারুকার্যময় গ্রিল বসায় সিসিক। যা বেশ প্রশংসিত হয়। একইসময়েই জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত পুরো সড়কের বিভাজকে গ্রিল বসানোর জন্য রড পুঁতে রাখা হয়। এখন পর্যন্ত এগুলো এভাবে অরক্ষিতভাবে পুঁতে রাখা হয়েছে। গ্রিলও বসানো হয়নি। রডও ঢাকা হয়নি। ফলে দেখা দিয়েছে ঝুঁকি।
গত বুধবার রাতে রেড ক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে যান সাহেদ আহমদ। মোটরসাইকেল থেকে ছিকটে তিনি বিভাজকের উপর পড়েন।
সাহেদ বলেন, সংস্কার কাজের জন্য সড়কজুড়ে পাথর ছড়িয়ে আছে। একটি পাথরে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে গিয়ে আমি পড়ে যাই। আমি ডিভাইডারের উপর পুঁতে রাখা রডের উপর গিয়ে পড়ি। তবে অল্পের জন্য বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে এভাবে রড ফেলে রাখলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর পরই সিসিকের কাজ করা সকল ঠিকাদারকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেই উন্নয়ন কাজ করার জন্য। কোনোভাবে নির্মাণ সামগ্রী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফেলে না রাখা ও ড্রেন খোলা না রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। তারপরও কেউ কেউ এটা মানছে না। জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কের বিষয়টি আমি আজকেই খোঁজ নিচ্ছি। সংশ্লিস্ট ঠিকাদারকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলছি।
আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দুঃখজনক ঘটনার পর সিসিকের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ মোট ৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তারা নোটিশের জবাব দিয়েছেন কী না তা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।
আপনার মন্তব্য