০৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০১:৩৩
মৌলভীবাজারে জুড়ীর হরিরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়( রেল ষ্টেশন)খেলার মাঠ গর্ত করে মাটি কাটা ও জবর দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা। প্রায় ৩৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মাঠ থেকে মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
সোমবার জুড়ী বাজারে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে জুড়ী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ সভাপতি, জুড়ী ক্রীড়া সংগঠক ক্রিকেটার মাহবুবুল ইসলাম কাজল এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা ব্যাডমিন্টন এসোসিয়েশন এর সভাপতি মহরম মজুমদার ও শাহীন আহমদ এর যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন আহমদ মইজন,আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ, জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, প্রথম আলো প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূণ চম্পু, জুড়ী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক চন্দন দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক কয়েছ আহমেদ, এপেক্স ক্লাব অব জুড়ী ভ্যালীর সেক্রেটারি এন্ড ডিএনএডিটর প্রভাষক এপেঃ জহিরুল ইসলাম সরকার, ক্রিকেটার জাকির আহমদ, ক্রিকেটার আরিফুল ইসলাম, জুড়ী উপজেলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি কামরুল ইসলাম পলাশ প্রমুখ।
মানববন্ধনে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, এ মাঠে গত ৩৪ বছর যাবত জুড়ী উপজেলার ছেলেরা খেলাধুলা করে আসছে। কার ইন্ধনে কার সাহসে জুড়ীর এই ঐতিহ্যবাহী এ মাঠের মাটি কাটা হয় তা খুঁজে বের করা হবে। সবাই সাথে থাকলে আমি আজকের মধ্যে এ মাঠে লাল পতাকা দিয়ে চিহৃিত করবো। আমি যতদিন আছি ততদিন কেউ এ মাঠ দখল করতে পারবে না।
মানববন্ধন প্রসঙ্গে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের হাসান জেবলু বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ কেউ দখল করে নি। বিদ্যালয়ের ৩৩ শতক জমি বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে। বিদ্যালয়ের দক্ষিণ সীমানায় একটি গোপাট ছিল। যা বর্তমানে ভরাট হয়ে যাওয়ায় রেল লাইনের নীচের নালা হতে জুড়ী নদীতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। বাকি জমি স্থানীয় মৌলা মিয়া নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ৭ টন গম বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা বিদ্যালয়ের নির্ধারিত মাঠ ভরাটের কাজ করে যাচ্ছি।
মাঠ দখলকারী হিসেবে অভিযুক্ত মৌলা মিয়ার পুত্র নাজিম উদ্দীন বলেন, আমার পিতার নামীয় ১৯ শতক রেকর্ডভুক্ত জমি হতে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের উন্নয়নে কিছু মাটি দিতে গেলে কিছু মানুষ অভিযোগ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, জনৈক নাজিম উদ্দীনকে অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়। মাঠের বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত।
আপনার মন্তব্য