২৩ মে, ২০২১ ১৯:৩৪
সুনামগঞ্জের শাল্লার উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু বাড়িঘরে হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এক আসামি। এদিকে এই ঘটনায় দারেকৃত মামলার প্রধান আসামি স্বাধীন মিয়ার (স্বাধীন মেম্বার) ছেলে মহসিন মিয়াসহ দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শুভজিৎ পালের আদালতে হাজির হয়ে শাল্লার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন মো. বাহানুর।
কাশিপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মো. বাহানুর (৩৯) কে শনিবার বিকালে গ্রেপ্তার করে শাল্লা থানা পুলিশ।
এদিকে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামী দিরাই থানার নাচনী গ্রামের বাসিন্দা সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য স্বাধীন মিয়ার ছেলে মহসিন মিয়া (২৪) ও শাল্লা থানার হবিবপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে তৈয়মুল কামাল বাবলু’র (৪০)।
রোববার দুপুরে একই আদালতের বিচারক শুভজিৎ পাল ভার্চুয়াল শুনানীতে দুই আসামীর এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মহসিন মিয়া ও তৈয়মুল কামাল বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে রিমাণ্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। কিন্তু রিমাণ্ড শুনানী শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. সেলিম নেওয়াজ।
প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাও. মামুনুল হকের সমর্থকরা ১৭ মার্চ বুধবার সকালে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়।
নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে হেফাজত ইসলামের মামনুল হকের সমালোচনা করে স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় এই তান্ডব চালানো হয়।
হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় ১৮ মার্চ দুটি পৃথক মামলা করা হয়। ১৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলার বাদী শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম। নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর পক্ষে অন্য মামলাটি করেন স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। এরপর ২৫ মার্চ আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেই ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাশ। পৃথক তিনটি মামলায় আসামী করা হয়েছে দিরাই থানার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ও নাচনী এবং শাল্লা থানার কাশিপুর গ্রামের নামাংকিত ৫০ জনসহ ১৫০০ জনকে।
গত ২ মে থেকে তিনটি মামলা তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার পর্যন্ত মোট ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। এরমধ্যে ১২ আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এর আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেডিয়ামে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাও মামুমুল হক বক্তব্য দেন।
আপনার মন্তব্য