নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ আগস্ট, ২০২১ ২১:২২

নিজেই নিজের ঘর ভেঙে ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন: অতঃপর ধরা

গরুর গোবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াবে। এ নিয়ে নবীগঞ্জে দুই প্রতিবেশী চন্দন বৈদ্য ও বুলু দাসের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ হাতাহাতি-মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় চন্দন বৈদ্যের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন অপরপক্ষের বুলু দাস। আহত বুলু দাসকে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রোববার বিকেলে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের জয়ন্তরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার পর চন্দন বৈদ্য জাতীয় জরুরী সেবার হটলাইন নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দেন। ফোনে জানান পার্শ্ববর্তী বাড়ির বুলু দাস তার বসত ঘর ভাঙচুর করে পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাৎক্ষণিক নবীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ঘর ভাঙচুর ও হামলার (চন্দন বৈদ্যের পরিবারের ওপর) কাহিনি পুরোটাই সাজানো। চন্দন বৈদ্য প্রতিবেশী বুলু দাসের ওপর হামলার ঘটনা চাপা দিতেই নিজেই নিজের ঘর ভাঙচুর করেন। এরপর ‘৯৯৯’-এ ফোন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারামারির ঘটনায় রাতে আহত বুলু দাসের বড় ভাই কানাই লাল দাস নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমদের নেতৃত্বে উপ পরিদর্শক (এসআই) অমিতাভ দাস তালুকদার ও উপ পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমানসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে চন্দন বৈদ্যের ভাই পল্টন বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর ভোরে মামলার প্রধান আসামি চন্দন বৈদ্যকে বাহুবল উপজেলা সদরের মৌরিগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, ‘চন্দন বৈদ্য পক্ষের লোকজনের আঘাতে বুলু দাস আহত হন। কিন্তু চন্দন বৈদ্য ঘটনা চাপা দিতে নিজের ঘর নিজেই ভাঙচুর করেন। এরপর ‘৯৯৯’ এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সঠিক ঘটনা জানতে পারে। এ ঘটনায় মামলায় চন্দন ও তার ভাই পল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত