নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪১

কোটি চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি এমপি নুরুলের, চাইলেন নিরপেক্ষ তদন্ত

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

এমন দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, সড়কের কাজে গাফিলতি থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রমাণ করা হোক। একই সঙ্গে কেউ চাঁদা দাবি করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একটি সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অংশ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল। তার দাবি, সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য ডেকেছিলেন তিনি। এর পরদিন রাতে তার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানতে পারেন।

সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের লতারগাঁও হাইস্কুল মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে যান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একটি সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে নির্মিত গার্ডওয়ালের ত্রুটি দেখান। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গার্ডওয়ালের একাংশ সরে যাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সড়ক ও সেতুসংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের মান নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য। তার দাবি, সাইটের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে ত্রুটিপূর্ণ অংশ দেখানোর পর গার্ডওয়ালের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে গার্ডওয়ালটি নতুন করে নির্মাণ করাই ভালো হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মত দেন।

এরপর সড়কের কাজের মান যাচাই করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে আসার আমন্ত্রণ জানান নুরুল ইসলাম নুরুল। বুধবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য তাকে আসতে বলা হয়। ঠিকাদারকেও সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। সংসদ সদস্যের দাবি, নির্ধারিত সময়ে প্রকৌশলী ও স্থানীয় লোকজন এলেও ঠিকাদার উপস্থিত হননি।

সড়কের ত্রুটি পরিদর্শন ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই নিজের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগটি কে বা কারা করেছেন, কী প্রেক্ষাপটে করেছেন এবং অভিযোগপত্রে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত দাবি করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দরখাস্ত হয়েছে, এটা তদন্ত হোক। এই যে কাজের গাফিলতি, এটা প্রমাণ করুক। আর যারা চাঁদা দাবি করছে, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের কাজের মান নিশ্চিত করতে গিয়ে তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে তা সফল হবে না। তার ভাষায়, ‘যদি জনগণের কাজ আদায় করতে গিয়ে মনে করে, অন্যান্য এমপির মতো আমাদের বিরুদ্ধে স্ক্যানডাল রটাইয়া আমারে দমায় নিবে, এটা তো ওদের ভুল ধারণা। আমার সদর-বিশ্বম্ভরপুরের প্রত্যেকটা কাজ আমরা সঠিকভাবে আদায় করে নিব।’

প্রসঙ্গত, বিএনপির এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও তাহিরপুরের বাদাঘাটের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার একই অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত