কুলাউড়া প্রতিনিধি

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০১:২৭

কুলাউড়ায় নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত ১, রাবার বুলেট নিক্ষেপ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৪ টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়েছে।

রোববার সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও দুপুরের দিকে  কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও নৌকার সিলমারা ব্যালট উদ্ধার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বদরুল ইসলাম (৩০)নামে একজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে রাবার বুলেট ও গ্যাস গান নিক্ষেপ করে।

উপজেলার বরমচাল, ভূকশীমইল, ব্রাহ্মণবাজার ও কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের ৭ টি কেন্দ্রে সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরমচালে নন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২ টার দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খুরশেদ আলম খান সুইটের সমর্থকরা কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদন্ধী প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এই ইউনিয়নের একই সময় বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের নৌকার সীলমারা প্রায় ৪০ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে প্রায় আধাঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে নন্দনগর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হোসেন খসরু ও বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম খান সুইটের সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বদরুল ইসলাম নামে এক যুবক আহত হোন। এ সময় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও গ্যাস গান ছুড়া হয়।

এদিকে ভূকশীমইলের কানেহাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট এবং কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের মইনুল ইসলাম সোহাগের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান মনিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাবার বুলেট ছুঁড়ে।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে গাজীপুর চা বাগান কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী মোছাদ্দিক আহমদ নোমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবের আহমদ খানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই ইউনিয়নে হোসেনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে নৌকার প্রার্থীকে আটক করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। এদিকে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও বরমচালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচনে বরমচাল এলাকায় দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব মালাকার বলেন, কেন্দ্রের বাহিরে থাকা প্রার্থীদের সমর্থকরা উত্তেজনা সৃষ্টি করলে কিছু সময় ভোট বন্ধ থাকে। তবে ভোটাররা কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নৌকার সীলমারা ব্যালট পেপারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। যারা ব্যালট পেপার পেয়েছে তারাই ভালো বলতে পারবে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরমচালের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্ণিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার বলেন, প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনায় ২ টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ রাখা হয়। সাড়ে ১২ টার পর থেকে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীলমারা ব্যালট ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ব্যাপারে কিছুই জানিনা। আমাদের ব্যালট পেপার সব ঠিক আছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বরমচালের নন্দনগর কেন্দ্রে সংঘর্ষের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং গ্যাস গান ছুঁড়ে। অন্য কেন্দ্রগুলোতে কত রাউন্ড  বুলেট ছুঁড়া হয়েছে সেটি এখনো হিসেব করা যায়নি। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত