নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৮

মিয়ানমার হয়ে সড়ক যোগাযোগ হলে ২৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে চীনে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন (বিএমসি) সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ট্রাক চীনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শুক্রবার রাতে সিলেটে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি। কারণ, দেশের রপ্তানিমুখী অনেক শিল্পের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধন করে চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে রপ্তানি করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের বাণিজ্য পরিস্থিতি রয়েছে।

তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনাই এখন বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। তৈরি পোশাকের বাইরে জাহাজ নির্মাণ, নন-লেদার পণ্য, পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য খাতকে আরও রপ্তানিমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে।

এ সময় পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এখনো নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি। মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন হারে মজুরি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি- সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীলতা পূর্বশর্ত। ব্যবসা-বাণিজ্য কখনো অনিশ্চিত পরিবেশ পছন্দ করে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা উচিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিস্বার্থে অস্থিরতা সৃষ্টিতে ইন্ধন দিয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশের স্বার্থে শিল্প ও ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান।

এসময় ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সারেথ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ ও সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদেরে ওপর হামলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা কোনো ব্যবসা নয়, এটি একটি সেবা। তাই চিকিৎসক ও রোগীর স্বজন- উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক হোক কিংবা অন্য পর্যায়ের চিকিৎসক, রোগীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং যথাযথ সেবা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনদেরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা অপ্রতুলতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানো হলে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রোগীর স্বজনদের বিশৃঙ্খল আচরণ বা হামলাও কাম্য নয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর ঘটে যাওয়া একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে তারা অবগত ও উদ্বিগ্ন। বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করবেন এবং ইতোমধ্যে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত