০৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ২০:৩৬
মৌলভীবাজারের জুড়ীর জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন মনিরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার বড় ভাই মখদ্দছ আলী মখন।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মখদ্দছ আলী মখন বলেন, ‘জাকির হোসেন মনির আমার সৎ ভাই। সে ছোটবেলা থেকে বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন জায়গায় থাকত। কয়েক বছর আগে আমি সহযোগিতা করে তাকে বাড়িতে থাকার জায়গা করে দেই।
‘এরপর আমার জায়গা থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নিতে চাইলে আমি তাকে বাধা দেই। তারপর থেকে আমার অপর ভাই আরজমনের সহযোগিতায় আমার পরিবারের সদস্যদের উপর বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দেয়। জাকির মনিরের মায়ের হাত বাথরুমে পড়ে ভেঙ্গে গেলে সে আমার ছেলেদের উপর কোর্টে মামলা করেছে, আমরা নাকি তার ঘর চুরি, ডাকাতি করে তার মায়ের হাত ভেঙ্গে দিয়েছি।’
মখদ্দছ আলী মখন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশ্ববর্তী মাসুক মিয়া গরু চরাতে গিয়ে তার হাতের আঙ্গুল কেটে গেলে জাকির মনিরের প্ররোচনায় আমিসহ আমার ছেলে মেয়েদের উপর মামলা করে। পরবর্তীতে জুড়ী থানা পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত না করে জাকির মনিরের কথামত আমাদের বিরুদ্ধে কোর্টে রিপোর্ট দিলে আমরা আদালতের শরনাপন্ন হই। মাননীয় আদালত আমার ছেলে লোকমানের জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠিয়ে দেন। এই দুই মামলায় আমার ছেলে জুড়ী কলেজের ছাত্র ইকবালকে ও আসামি করা হয়।
‘জাকির মনির চতুর, বুদ্ধিমান হওয়ার কারনে প্রশাসন তার কথায় চলে। আমরা এসপি, ওসি সাহেবকে সব কিছু বলার পরও কোন সুরাহা পাচ্ছি না।’
৭১ বছর বয়স্ক এ বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি তাকে জায়গা দেওয়ার কারনে সে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মাধ্যমে প্রতিদান দিচ্ছে, এ বয়সে অসুস্থতার কারনে কোর্টের ৪ তলায় উঠতেও পারি না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেল হাজতে থাকা লোকমান আহমদের কন্যা একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মখদ্দছ আলী মখন মামলার বাদী মাসুক আহমদের মায়ের একটি ভিডিও সংবাদিকদের কাছে দেন। ভিডিওতে মাসুক আহমদের বৃদ্ধ মাকে বলতে শোনা যায়, আমার ছেলের আঙুল গরুর রশিতে কেটে গেছে। কোর্টে যাওয়া লাগলেও আমি সেখানে গিয়ে এই কথাই বলবো।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন মনির বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমি মন্তব্য করবো না। তবে আমাকে নিয়ে কেউ অপ্রাসঙ্গিক কিছু বললে সাইবার আইনে মামলা করবো।’
আপনার মন্তব্য