১১ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ০০:০৩
উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অপসারণ করে উপাচার্য পদের সম্মান ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে শিক্ষামন্ত্রী ঐতিহাসিক ভুমিকা রাখবেন, এমন প্রত্যাশা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষামন্ত্রীর সফরের আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন প্রত্যাশার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার বিকেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে শাবি ক্যাম্পাসে আসবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।
মন্ত্রীর সফর নিয়ে বিকেলে জরুরী সভা করেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তারা।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার।
উপচার্য ও শাবি প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের অপসারন, শিক্ষার্থীদের নামে মামলা প্রত্যাহার, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করার দাবি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানাবেন বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী দাবি পূরনে উদ্যোগ নেবেন বলেও আশা তার।
ইয়াসির বলেন, ‘গত ১৬ জানুয়ারি থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি। ঐ কালো দিবসে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি এই উপাচার্য তো মেনে নেনইনি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর যে নারকীয় পুলিশী হামলার ঘটনার অবতারণা করেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তা নজিরবিহীন।
‘হামলার ঠিক পরপর গনমাধ্যমে এসে যখন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নির্লিপ্ত মিথ্যাচার করেন, এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে হল খালি করার নির্দেশ দেন, তখনই এসব অন্যায় আদেশ অগ্রাহ্য করে শাবি শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষার্থীবিরোধী উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে শাবিপ্রবিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বহু শিক্ষার্থীর শরীর এখনো লাঠি-বুলেট-বোমার সকল আঘাত, জখম নিয়ে ভয়াল সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ এরজন্য দায়ী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এখনও জনগণের টাকায় পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিশান বাসভবনে সকল বিলাসী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৯ জানুয়ারি থেকে আমাদের ২৪ জন শিক্ষার্থী এই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে। দীর্ঘ ১৬৩ ঘন্টা অনশনের পর ২৬ জানুয়ারি শাবির শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার বার্তা নিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ইয়াসমিন হককে সরকার দূত হিসেবে প্রেরণ করলে ২২ জানুয়ারিতে যোগ দেওয়া ৪ জনসহ ২৮ জন শিক্ষার্থী তাদের মরণপণ অনশন ভেঙে সরকারের সদিচ্ছায় সাড়া দেয়। অথচ অত্যন্ত বিস্ময় এবং হতাশার সাথে আমরা দেখছি যে শিক্ষার্থীদের উপর দায়েরকৃত দুইটি হয়রানিমূলক মামলা এখনও তুলে নেওয়া হচ্ছে না, এবং ক্রমান্বয়ে নানা অযুহাতে মামলা তুলে নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
‘শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ, নূন্যতম ক্ষুৎপিপাসা নিবারণে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে ২৫০ এর অধিক শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ প্রভৃতি অনলাইন অর্থ লেনদেন মাধ্যম ব্যবহার করে অনুদান পাঠিয়েছিলেন। তাদের সকল একাউন্ট বিনা নোটিশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মামলা তুলে নেওয়ার এবং এসব একাউন্ট সচল করার ওয়াদা দেওয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ হয়রানি নিরশনের ব্যাপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।’
ইয়াসির বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি আমাদের সাথে ফোনে ও ভিডিও কলের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। আমরা বিনীতভাবে আহ্বান করব, একই রকম আন্তরিকতার সাথে তিনি আমাদের দাবিগুলো সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের এই হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নেবেন।
‘অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মত একজন ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার দম্ভ, অপরিণামদর্শীতা ও সর্বৈব ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমরা প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে আছে। যেখানে কোভিডের প্রকোপ বৃদ্ধির এই সময়ে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ও ক্ষেত্র বিশেষে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অফলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা অব্যাহত আছে, সেখানে আমরা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বড় সেশনজটের আশংকায় দিন পার করছি। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রের অন্যসকল শিক্ষার্থীদের সাথে তাল মিলিয়ে জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে তা নিশ্চিত করতে অনলাইনে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বশরীরে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা অবিলম্বে চালু করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততার আরজি জানাচ্ছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে উপাচার্য পদের সম্মান ও মর্যাদা পুনোরুদ্ধারে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবেন এই কামনা আজ শুধু শাবিপ্রবিই নয়, বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীর।’
তিনি বলেন, ‘২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যখন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, তা শাবিপ্রবিসহ সমগ্র বাংলাদেশেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক সুদিনের পয়গাম হিসেবে আদৃত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি শাবিপ্রবির ব্যর্থ ও অযোগ্য উপাচার্যসহ প্রশাসনিক অন্যান্য দায়িত্ব পালনে অকৃতকার্য ব্যক্তিদের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই সংস্কারের শুভসূচনা হবে। আমরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামীকাল শুক্রবার আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছি।’
আপনার মন্তব্য