নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ০১:১১

টিলা কেটে রাস্তা তৈরি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি টিলা কেটে রাস্তা তৈরীর কাজ করা হচ্ছে। টিলার মাঝ বরাবর মাটি কেটে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরীর কারণে টিলাটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেসার্স হাসান এগ্রো ফার্ম নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিলাটি কাটছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তার জন্য নয়, মূলত টিলা কাটতেই রাস্তার নাম করে টিলার পিছন থেকে মাটি কাটা শুরু করেছেন মেসার্স হাসান এগ্রো ফার্ম।

সরেজমিনে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বেগুনবাড়ির চল্লিশপাড়া মুখ এলাকার নভেম ইকো রিসোর্টের পাশে একটি লেবু ও আনারসের বাগান রয়েছে। রাস্তার পাশের এই বাগানের টিলার উপর থেকে টিলার পিছন পর্যন্ত প্রায় ১০ ফুট প্রস্ত করে রাস্তা নির্মানের জন্য পিছন দিকে টিলা কেটে নেয়া হয়েছে। লোকজন যেন রাস্তা থেকে টিলা কাটা দেখতে না পারে ও টিলা কাটার অংশটি পুরোনো মনে হয়, সেজন্য টিলার কাটা অংশে বাঁশের পাতা ও অন্য আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। টিলাটি কাটার ফলে দুই পাশের মাটি এমন অবস্থায় রয়েছে বৃষ্টি হলে কিনারের টিলাগুলো ধীরে ধীরে মাটি গলে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ বলেন, এই এলাকায় একসময় উঁচু উঁচু টিলা ছিলো। টিলাগুলো কেটে এখানে ঘর নির্মান ও বাগান করার কাজ অনেক বছর থেকেই চলছে। যারা টিলা বা পাহাড় কেটে নিচ্ছে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বাধা দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, এখানে তারা বলছে, রাস্তা তৈরী করবে। সবাই কোন না কোন বাহনা দেখিয়ে টিলা কাটে। এখানেও তাই। টিলার মাঝখানে মাটি কাটার ফলে এখন সুবিধা অনুযায়ী পুরো টিলার মাটিই কাটতে পারবে। যেভাবে এই এলাকায় টিলা কাটা হচ্ছে একদিন দেখা যাবে এই এলাকার কোন টিলা নেই। সব সমতল হয়ে গেছে।

মেসার্স হাসান এগ্রো ফার্মের তত্ত্বাবধয়ক জহর মিয়া বলেন, এই জায়গার মালিক মসুদ আহমেদ কিছু জায়গা বিক্রয় করবেন। জায়গা বিক্রয় করার জন্য একটি রাস্তা তৈরীর জন্য টিলাটি কাটিয়েছেন। যতটুকু কাটা হয়েছে তাতে টিলার ক্ষতি হবে না।

টিলা কাটার জন্য কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই এলাকায় টিলা কাটতে কোন অনুমতি লাগে না। সবাই তো এখানে টিলা কেটে ঘর বানায়। আমরা শুধু রাস্তা বানিয়েছি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম বলেন, শ্রীমঙ্গলে যেভাবে প্রকৃতি ধ্বংস চলছে তা অব্যাহত থাকলে ‘শ্রীমঙ্গল’ অচিরেই ‘শ্রীহীন অমঙ্গল’ শহরে পরিনত হবে।
পাহাড়-টিলা কাটা, বন উজাড় ও পাহাডী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনকে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নজর দেয়ার আহবান করছি।

শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেছার উদ্দীন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় টিলা কাটার বিরুদ্ধে আমরা রেগুলার অভিযান করছি। জেল জড়িমানা করছি। পাহাড় বা টিলা কাটা অপরাধ। বেগুন বাড়ির টিলা কাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত