২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ০০:২৬
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকার দুটি ভবনের দেয়ালে আঁকা রয়েছে দুটি গ্রাফিতি। একটি ঢাকার আলোচিত গ্রাফিতি ‘সুবোধ’-এর আদলে। টেলিফোনে কথা বলছে ‘সুবোধ’। আরেকটিতে একটি অন্ধকার ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা হাতে রয়েছে একটি হলুদ ফুল। দুটো গ্রাফিতিতেই ইংরেজি হরফে লেখা রয়েছে- হবেকি?
এই গ্রাফিতিগুলো কে কারা এঁকেছেন তা জানা না গেলেও শাহজালাল বিশ্ববদ্যিালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েই এই গ্রাফিতির আদল থেকে এমনটি ধারণা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এই গ্রাফিতগুলো প্রমাণ করছে, আমাদের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সাধারণ মানুষদেরও সংহতি রয়েছে।
উইকিপিডিয়া মতে, গ্রাফিতি হল অনুমতি ব্যতিরেকে জনসাধারণের অভিমতকে শিল্পীয় উপায়ে দেয়ালের উপরে লেখনী কিংবা অঙ্কনের মাধ্যমে তুলে ধরা। স্প্রে পেইন্ট বা মার্কার পেন সাধারণত গ্রাফিতি তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন শাবি শিক্ষার্থীরা। ১৯ জানুয়ারি থেকে অনশন শুরু করেন তাদের কয়েকজন। ২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তারা। আর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ক্যাম্পাসে এসে দাবি পুরণে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাসস দিলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি টানা ২৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন তারা।
কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিলেও শাবিতে এখনো রয়ে গেছে আন্দোলনের রেশ। উপাচার্য আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতেও দেখা যাচ্ছে।
এরমধ্যে শাবি ক্যাম্পাসের পাশে দেখা গেলো এ দুটি গ্রাফিতি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সিলেটের আখালিয়া এলাকার। ওই এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পাশে দেয়ালে একটি ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের পাশের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই গ্রাফিতিগুলো চোখে পড়ে জানান স্থানীয়রা।
সুবোধের আদলের গ্রাফিতিটি আঁকা রয়েছে বিজিবি ক্যাম্পের পাশের দেয়ালে। এতে দেখা যায় শ্রশ্রুমন্ডিত ঝাকড়া চুলের একজন লোকে টেলিফোনে কথা বলছেন। টেলিফোনের তার যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে সেখানে লেখা রয়েছে- HOBEKI?
এই ধাাঁচের গ্রাফিতি ২০১৭ সালের দিকে দেখা গিয়েছিলো ঢাকা শহরে। ছবির পাশে লেখা ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, সময় এখন পক্ষে না’ -এমন বাক্য তখন আলোড়ন তুলেছিলো। সেই ‘সুবোধের’ আদলেই আঁকা হয়েছে বিজিবি ক্যাম্পের পাশের গ্রাফিতিটি।
অপরদিকে, মাউন্ড এডোরা হাসপাতালের পাশের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিতে দেখা যায়, একটি অন্ধকার ঘরে জানালা দিয়ে বেরিয়ে এসেছে একটি হাত। সেই হাতে গুজা রয়েছে হলদে ফুল। এই জানালার উপরেও লেখা রয়েছে- HOBEKI?
শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন নিউজবাংলাকে বলেন, গ্রাফিতিগুলো আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের পাষেই আঁকা হয়েছে। তাছাড়া গ্রাফিতির ধরণ দেখেও বুঝা যায় এগুলো আমাদের আন্দোলনের সাথে সংহতি ও সমর্থন জানিয়ে আঁকা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুুলিশ আমাদের পিটিয়েছে। তবু আমরা তাদের ফুল দিয়েছিলাম। একটি গ্রাফিতিতে এরকম কিছু একটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর সুবোধের ফোনে কথা বলার গ্রাফিতিটিতে আমাদের দাবি পুরণে উচ্চ মহলের আশ^াসের বিষয়টি বুঝানো হতে পারে।
গ্রাফিতি একধরণের প্রতিবাদী চিত্রকর্ম উল্লেখ করে চিত্রশিল্পী সত্যজিত চক্রবর্তী বলেন, সাধারণত গ্রাফিতি যারা আঁকেন তাদের নাম জানা যায় না। গোপনেই এগুলো আঁকা হয়। গ্রাফিতি হলো শিল্পীদের গোপনীয় প্রতিবাদ।
তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেয়ালে এমন প্রতিবাদী চিত্র আঁকার প্রবণতা রয়েছে। গ্রাফিতিতে সাধারণ সময়ের চিত্র বা কোন একটি ঘটনা বা অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়।
আপনার মন্তব্য