শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি

২২ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১৯:৫৪

উজির মিয়ার মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করবে পরিবার

জানাজা সম্পন্ন, সর্বোচ্চ বিচারের দাবি

উজির মিয়ার মায়ের আহাজারি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে উজির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়া মারা গেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে, উজির মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরআগে সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম নিহত উজির মিয়ার ময়নাতদন্ত করেন।

পরে বিকেল ৩ টায় উপজেলার পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে বাগেরকোনা গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিহত উজির মিয়ার স্বজনরা পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগ করে ৪ ঘন্টা ব্যাপী পাগলা বাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের সু-বিচারের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

জানাজা শুরুর আগে উজির মিয়া হত্যার সুবিচারের দাবি রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলার সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি আবুল কালাম, শান্তিগঞ্জ আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি আবদুল হেকিম, সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) শুভাশিস ধর, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজি মুক্তাদির হোসেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, কেন্দ্রিয় যুব দলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের রাজনৈতিক সহকারি মো. হাসনাত হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা তেরাব আলী, তাঁতী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন ও মো. আনোয়ার হোসেন।

দুটি তদন্ত কমিটি: উজির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটিতেই তিনজন করে সদস্য রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার উল হালিমকে। পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবু সাঈদ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি গরু চুরির মামলার সন্দেহ জনক আসামি হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে নিহত উজির মিয়াকে গ্রেফতার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।  বৃহস্পতিবার ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ২১ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়া নিজ বাড়িতে অসুস্থতা আরও বাড়লে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত