তাহিরপুর প্রতিনিধি

২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১৭:৫৮

হাওরে বাঁধের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির (সোমবার) মধ্যে হাওরের বাঁধ নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ করার কথা। থাকলেও ২৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অর্ধেক কাজই শেষ হয়নি।

যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাঁধের ৬৬ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এ পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫ভাগ কাজ হয়েছে। অনেকে বাঁধে এখনও মাটির কাজই শেষ হয়নি।

সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ফসলের ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, হাওরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বাঁধের কাজে ঢিলেমি লক্ষ্য করা গেছে।

বাঁধের কাজে ঢিলেমিতে অসন্তুষ্ট হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারাও। তারা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরাবরই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে না। ফলে এনিয়ে লাখ লাখ কৃষক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক থাকে।

তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ,এখনও বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। আমরা খুবেই চিন্তাই আছি আগাম বন্যার আশংকায়। সরকার ফসল রক্ষা বাঁধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ঠিকমত কাজ হয় না।

তিনি বলেন, বাঁধের কাজ তো শেষ হয়ই নি। উল্টো বাঁধের নামে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণের নামে এক্সভেটরের তাণ্ডবে ধ্বংস হচ্ছে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওর সংলগ্ন পাটলাই নদীর পাড় কেটে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে মাটি উত্তোলন করায় নদী ও নদীর পারের সারিবদ্ধ হিজল করচের গাছগুলো হুমকিতে পড়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরে তাহিরপুর উপজেলায় ৬৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ঘটন করা হয়েছে। এতে ৫৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ ও মেরামত হবে। এসব প্রকল্পে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৮৩ টাকা।

তাহিরপুর উপজেলা পিআইসির সদস্য সচিব ও পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত ৬৬ ভাগ কাজ হয়েছে। প্রতিটি বাঁধে মাটির কাজ শেষ হয়েছে তবে অন্যান্য কাজ বাকী রয়েছে। যা দ্রুতই শেষ হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হান কবির বলেন, বাঁধ নির্মাণে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যারাই অনিয়ম করবে ও নির্ধারিত সময়ে মধ্যে কাজ শেষ করবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত