২৯ অক্টোবর, ২০২২ ১৮:৫৩
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের কটালপুর এলাকার রত্না নদীর খালের উপর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৩ হাজারের বেশি পরিবার। শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন স্থানীয়রা।
এলাকার সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের মজবুত একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু। চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগের সঙ্গে স্বেচ্ছায় জড়িত হন এলাকার সাধারণ মানুষজনও।
রত্না নদীর উত্তরদিকে উত্তরপাড়া, সোনাপুর ও আটঘর গ্রামে প্রায় ১০ হাজারের মতো মানুষের বসবাস। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রায় ৩০০ ফুট প্রস্থ খালের ওপর ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁশের সাঁকোটিতে প্রায় ৪ ফুট পরপর ৭০টি স্থানে ২টি করে বাঁশের খুঁটি বসানো।
জানা যায়, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ পারাপার হয়। প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগ সাঁকোটি পারাপারের উপযোগী করা হয়। এতে দুটি বাঁশ দেওয়া হতো। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হতেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাঁশের এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লক্ষ টাকা। উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলুর উদ্যোগে ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এই সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকো নির্মাণের অর্ধেক টাকা দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জিলু।
উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল করিম বলেন, সরকারিভাবে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী যুগের পর যুগ চরম দুর্ভোগ সহ্য করে আসছি। আমরা প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সাঁকোটি পার হই। আগে একটি বাঁশের ওপর পা ফেলে সাঁকো পার হতে হতো। ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এখন সাঁকো মজবুত করে বানানো হয়েছে। মছব্বির আলী বলেন, সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পারাপার হতে হয়। এই সাঁকো নির্মাণের ফলে হাজার হাজার মানুষের চলাফেরার কষ্ট আপাতত লাঘব হচ্ছে।
উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু বলেন, নদী পারাপারে এলাকার লোকজন খুবই কষ্ট করে আসছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে দেখে আমারও কষ্ট হয়। তাই এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশের একটি মজবুত সেতু তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করি। বেশ কয়েক দিনে সুন্দর একটি সাঁকো দৃশ্যমান হয়েছে।
আপনার মন্তব্য