০৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৫১
স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অবশেষে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল বিয়ানীবাজারের এক নাবালিকা। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরে এ বাল্য বিয়ের আয়োজন চলছিল। যে বয়সে স্কুলে যাবার কথা সে বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মেয়েটি। বিয়ে উপলক্ষে মেয়ের বাড়িতে রীতিমত গেইট ও তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) বিবাহের দিনক্ষণ ঠিক করে বর-কণে দু’পক্ষের আয়োজনও ছিল জাঁকঝমক; বাসায় আত্মীয়স্বজনের সরব উপস্থিতিও ছিল লক্ষনীয়।
১৩ বছরের কনের হবু বর পেশায় রংমিস্ত্রি। অভাবগ্রস্থ কনের বাবার কাছে এ যেন সোনায় সোহাগা, তাইতো এমন পাত্র তিনি হাত ছাড়া করেননি। মেয়ের বিয়েতে সাধ্যমতো সবকিছু দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টাও ছিল তার। বরের পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বিয়ের যৌতুক হিসেবে ফ্রিজও পাঠিয়ে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। বর এবং কনের উভয়ের স্থায়ী নিবাস কিশোরগঞ্জে হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার পণ্ডিত পাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পন্ডিতপাড়ায় তাদের বাসায় যান স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী ও কয়েকজন যুবক। বাড়িতে গিয়ে তারা মেয়ের বাবা ফারুক আহমদের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধের আহবান জানান।
এতে মেয়ের বাবা নিজের অভাব অনটনের কথা তুলে ধরে অপরাগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে প্রশাসনের ভয়ে বিয়ে বন্ধের আশ্বাস দেন। এরপরও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুঃ আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে। সেখানে মেয়রর বাবা ফারুক আহমদ ও বরের বাবা ইব্রাহিম আলীকে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এসময় কনের বাবা ও বরের বাবা উভয়েই জানান, তারা এই বিয়ে বন্ধ করবেন এবং মেয়র বয়স পূর্ণ হলেই তাকে বিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মাও. শিব্বির আহমদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অসীম কুমার বণিক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশিরুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, সাংবাদিক সুফিয়ান আহমদ, সজীব পলাশ, ফয়েজ আহমদ, সায়দুজ্জামান অপু প্রমুখ।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুঃ আসাদুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে এই বাল্য বিবাহটি বন্ধের যথাযথ উদ্যোগ নিই। তিনি জানান, ‘বাল্য বিবাহের কুফল ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছি। গতকাল উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নে একটি মাদ্রাসা ও একটি মাধ্যমিক স্কুলে আমরা বাল্য বিবাহের কুফল-প্রতিকার ও এ বিষয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ অবহিতকরণে সেমিনার করে আসছি। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।’
আপনার মন্তব্য