১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ১১:৪০
সারি ও বড়গাং নদীতে ১৫জনের একটি ভূমি খেকুচক্র প্রভাবশালীদের ইশারায় স্থানীয় শ্রমিকদের কাছ থেকে ২ ধাপে ১শত থেকে ৪শত টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা বাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বার বার লিখিত ও মৌখিক আবেদন করে প্রতিকার পাচ্ছে না শ্রমিকরা।
মহামান্য আদালতের নিষেদাজ্ঞা থাকায় সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। সরেজমিনে উপজেলার সারী নদী ঘুরে দেখা যায়- আন্তজাতিক ১৩০০নং পিলার হতে প্রায় ৭শতগজ নিম্নাঞ্চলে বড় নায়াগাং নদীর উৎস মূখ।
প্রতি বৎসর বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পানিতে বড় নদীর উৎসমুখে বালুর চর জেগে উঠে। স্বাধীনতার পূর্বে হতে জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট এলাকার নৌকা শ্রমিকরা বালু সংগ্রহ করে আসে। ফলে ঐ বালু মহাল থেকে নিজপাট, চারিকাটা ও দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ গুলো নিজ নিজ সীমা রেখা থেকে বালু আহরন ও সংগ্রহের উপর ট্যাক্স আদায় করে আসছে।
এছাড়া বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন বুরোর অধিনে জেলা প্রশাসক সারী ও বড় নয়াগাং কে লীজ প্রদান করে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করত। ২০০৯ সনের দিকে তৎকালীন জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট আসনের এক সংসদ সদস্য লালাখাল বেড়াতে যান।
জায়গাটি পর্যটকদের কাছে আকষণীয় হওয়ায় তিনি লালাখাল এলাকায় অল্পমূল্যে কিছু জায়গা ক্রয় করে গড়ে তুলেন রিভার কুইন নামে হোটেল। হোটেল নির্মাণের পর হতে নিজ ব্যবসা প্রবৃদ্ধির জন্য লালাখাল চা-বাগানের সাথে মিলিত হয়ে পরিবেশ দূষণের নামে এবং বাগানের ক্ষতি দেখিয়ে মাহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করে।
ফলে মাহামান্য হাইকোর্ট সারী ও বড় নয়াগাং নদীতে খনিজ সম্পদ আহরনে উপর নিষেদাজ্ঞা জারী করে। সেই সাথে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের সকল প্রকার লীজ প্রদান সাময়িক ভাবে স্থগিত করে। এদিকে হা-হা-কার পিড়িত শ্রমিকরা সারী ও বড় নয়াগাং নদী থেকে বালু আহরন করাকে কেন্দ্র করে পুজি করে উপজেলার হর্নি (ময়নাবস্তি) গ্রামের মশ্রব আলী ছেলে আব্দুল মন্নান উরফে টুপি মন্নান (৫০), একই গ্রামের প্রকাশ মটর মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (৪০), মোবারক আলীর ছেলে মন্নান মিয়া (৪০), কালিঞ্জি গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন, একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে বাবুল আহমদ (৩৫), কালিঞ্জি উত্তর গ্রামের আজই মিয়ার ছেলে আব্দুছ ছালাম (৩৫), বাইরাখেল মৃত ইছুব আলীর ছেলে সিকন্দর আলী (৪৫), একই গ্রামের রকিব আলীর ছেলে খলিলুর রহমান (৬৫), সিদই মিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদসহ (৫৫) ইউনিয়ন ট্যাক্স ইজারাদার জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুখলিছুর রহমান দৌলা হত্যাকান্ডের অন্যতম পলাকত আসামী জয়নাল এর অনুসারী মানিক, জহির, নিজাম, আজিজুল বিলাল সুরুজ আলী গংরা নৌকা শ্রমিকদের কাছ থেকে ২ধাপে ১শত হতে ৪শত টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে।
নৌকা শ্রমিকের পক্ষে নজির আহমদ, জয়নাল, ছালাম, শিব্বির, মকবুলসহ প্রায় ১০-১৫জনের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সংশিষ্ট প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে চাঁদা আদায়কারীদের উচ্ছেদ করে। কিন্তু প্রশাসন ফিরে আসলে বিজিবি’ নাম ব্যবহার করে চক্রটি পুনরায় নৌকা শ্রমিকদের কাছে চাঁদা দাবি।
চাঁদা না দেওয়ায় তারা নদী গর্ভে থেকে শ্রমিকদের আলু আহরনে বাধা দিচ্ছে। তাদের বাধায় অতিষ্ট হয়ে গত ১মাস থেকে সারী নদীর প্রায় ২০হাজার শ্রমিক অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। তারা আরও বলেন- এভাবে চলতে থাকেলে আমরা ২-১দিনের মধ্যে বেঁচে থাকার দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পরিবার পরিজন নিয়ে চলে যাব।
এ বিষয়ে-অভিযুক্ত আব্দুল মন্নান উরফে টুপি মন্নান(৫০) এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন- এই নদীর উৎস মূখ থেকে বালু উত্তেলনে কোর্টের নিষেধ রয়েছে তাই আমরা কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করছি। চাঁদা আদায়ের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন বিজিবি আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে তাই এখান থেকে বালু নিলে কিছু টাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে রাখা হয়। এ ব্যপারে বিজিবির কাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর উত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে বিজিবি ৪১ব্যাটালিয়নের লালাখাল ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার সুরেন্দ(০১৭১৯-৫৬৬২১১) বলেন, আমি এ ক্যাম্পে নতুন এসেছি। সীমান্তের শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তের আমরা জিরো পয়েন্ট থেকে ৪শত গজের মধ্যে কাউকে বালু পাথর উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না। টাকা আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই।
বিজিবির নাম ভাঙ্গীয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে আমাদেরকে বিষয়টি কেউ জানায়নি, তবে তিনি এ ধরনের ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
এ ব্যাপারে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী (০১৭১০৯৮৪০০৩) জানান, তিনি লোকমুখে শুনেছেন একটি ভূমিখেকু চক্র সারী নদীর নিরিহ নৌকা শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। এদিকে বর্তমানে শ্রমিকরা চাঁদা না দেওয়ার ফলে প্রভাবশালীরা ১মাস থেকে বালু উত্তোলন করতে দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন তার ইউনিয়ন পরিষদ সারী নদী থেকে কোন ট্যাক্স আদায় করছে না। তিনি শ্রমিকদের বাঁচানোর স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ গ্রহন করার দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য