১৬ জুলাই, ২০২৩ ২১:২৭
কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু ও মুল্লুক হোসেন
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পালাপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে।
প্রথম মামলাটি করেছেন উপজেলার ২ নম্বর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেন। অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী। উভয় মামলাতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর ও অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে গত ১০ জুলাই রাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভাঙচুরের পর পরই সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেন এই ঘটনার জন্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়াকে দায়ী করেন। আলফু মিয়া সরাসরি ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করলেও ওই বৈঠকের এক পর্যায়ে টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে গ্লাস ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।
এদিকে, পূর্ব ইসলামপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেনের দায়ের মামলায় তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফুকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে উল্লিখিত বাকি আসামিরা হলেন মো. আলমগীর আলম, ছাদেক মিয়া, রুপ মিয়া।
মুল্লুক হোসেনের মামলায় কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফুসহ অন্যান্যদের বেআইনিভাবে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর, আক্রমণাত্মকভাবে ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনায় রোববার দায়ের অপর মামলায় উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মুল্লুক হোসেনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন রুপা মিয়া, সফর মিয়া, বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, কবির হোসেন ও জামাল হোসেন।
মামলার বিষয়ে জানতে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেন ও তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় মামলার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পাল্টাপাল্টি দুটি মামলাতেই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের ঢালারপাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ইজারা বহির্ভূত জায়গা থেকে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। লিজের বাইরে ঢালারপাড় এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালু থাকার কারণে তারা অবাধে বালু লুটপাট করছে। এতে কবরস্থান, বসতি বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি ও অসহায়দের জন্য নির্মিত সরকারি গুচ্ছগ্রামকে হুমকিতে পড়েছে। এনিয়ে আগে থেকেই মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন মুল্লুক হোসেন ও কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু।
এদিকে, ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে কথা বলতে গিয়ে সরকারের সমালোচনা করায় আওয়ামী লীগ নেতা মুল্লুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে রোববার মিছিল-সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ক অবরোধের হুমকি দেওয়া হয় কর্মসূচি থেকে।
আপনার মন্তব্য