নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ

১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ২০:৪৩

কমলগঞ্জে সাবাড় হচ্ছে ছায়াবৃক্ষ, চা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব

চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে ব্যাপকহারে শেডট্রি চুরি হয়ে যাচ্ছে

চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে ব্যাপকহারে ছায়াবৃক্ষ চুরি হয়ে যাচ্ছে। কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারীরা গাছ চোর চক্রের সাথে যোগসাজষে চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন থেকে ছায়াবৃক্ষ হিসাবে প্রতিনিয়ত মুল্যবান গাছগাছালি চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে একদিকে চা বাগান সমূহে চায়ের উৎপাদন হ্রাস পেয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্প ক্রমাম্বয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। সরেজমিন কয়েকটি চা বাগান ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, ডানকান ব্রাদার্সের চাতলাপুর, শমশেরনগর, আলীনগর ও এর ফাঁড়ি চা বাগান এবং (ন্যাশনাল টি কোম্পানী) এনটিসির কুরমা, চাম্পারায় চা বাগান থেকে ব্যাপকহারে ছায়াবৃক্ষ চুরি হচ্ছে। সীমান্তবর্তী চাতলাপুর চা বাগানের ১৬, ১৮, ২২ নম্বর সেকশন বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। বাগানের শ্রমিকরা বলেন, চাতলাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও হেডক্লার্ক সহ আরও কিছু কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা যোগসাজষে গাছ চুরির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে হেডক্লার্ক তৈয়ব আলী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে বলেন, ২০১৪ সালে চা বাগানে ১০ হাজার গাছ রোপন করেছেন। বাগানের শ্রমিকরাই গাছ চুরি করছে। শমশেরনগর ও এর ফাঁড়ি দেওছড়া, আলীনগর ও এর ফাঁড়ি কামারছড়া, সুনছড়া চা বাগান থেকে অব্যাহতহারে গাছ চুরির ফলে বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়ছে চা বাগান সমুহ। ছায়াবৃক্ষ কমে যাওয়ায় বিনষ্ট হচ্ছে চা গাছ। এদিকে এনটিসি’র কুরমা, চাম্পারায় চা বাগান থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল চা বাগান ম্যানেজমেন্ট ও শ্রমিকদের জিম্মি করে নিয়মিতহারে গাছ চুরি করে নিচ্ছেন। ওই মহল কুরমা বিটের সংরক্ষিত বাঁশ ও বন মহাল অবাদে উজাড় করে চলেছেন।
    ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগরের ফাঁড়ি দেওছড়া ডিভিশনের কয়েকটি সেকশন ঘুরে চা শ্রমিক, সেকশনের পাহারাদার ও দায়িত্বরত কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৬টি সেকশনের সবকটি সেকশন থেকে গাছ হরিলুট চলছে। বস্তির কিছু লোক, চা বাগানের অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কতিপয় শ্রমিকদের যোগসাজষে চা বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ চুরির প্রবণতা মাত্রাতিরিক্তহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের একজন শ্রমিক সর্দার দেওছড়া ডিভিশনের গত দুই বছরের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দিনের বেলা গাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বাগানের ১৬টি সেকশনের প্রতিটি সেকশন থেকে গত কয়েক বছরে কয়েক সহ¯্রাধিক ছায়াবৃক্ষ চুরি হয়েছে।
    এভাবে অব্যাহতহারে ছায়াবৃক্ষ চুরির ফলে চায়ের উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। চা বাগানের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাছ পাচারের অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে থানায় সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার নেওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকদের অভিযোগে প্রকাশ, কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মচারী সেকশনের পাহারাদারদের যোগসাজষে চা বাগানের বড় বড় গাছ কেটে রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে পাচার করে শেডট্রি উজাড় করছেন। সেকশনে পড়ে থাকা গাছের শত শত মোথা তা প্রমাণ করছে। চা বাগান থেকে ব্যাপকহারে শেডট্রি পাচার হওয়ায় চা শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের সন্মুখীন হচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
    ইউপি সদস্য সিতারীম বীন জানান, চাতলাপুর চা বাগান, শমশেরনগর, আলীনগর থেকে প্রতি রাতে ট্রাকযোগে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে চাতলাপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক ইফতেখার এনাম এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ সমুহ সঠিক নয়। বাগানে গিয়ে কথা বলার জন্য।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত