১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:২৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে আসছেন বৃহস্পতিবার। টানা ২য় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বায়িত্ব নেয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো সিলেট আসছেন তিনি। ফলে সিলেটজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিদ্র করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর সফল করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণায়। প্রধানমন্ত্রীর আলিয়া মাদরসা মাঠের জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। এই জনষবায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা।
সে লক্ষ্যে গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা কর্মীসভা করছেন প্রতিদিনই। দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অব্যাহত প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোরে মোরে টানানো হয়েছে বড় বড় ব্যনার, ফেস্টুন। বিলবোর্ডগুলোতে টানানো হয়েছে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার।
ইতিমধ্যে নগর জোরে বিভিন্নস্থানে নির্মিত হয়েছে তোরণ। তোরনগুলোতে ব্যনার সংযোজনের কাজ চলছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে মাদরাসা মাঠও।
এখন প্রস্তুতি সভা আর প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেট বিভাগের আওয়ামীলীগ, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। ৫ /৭ দিন থেকে আওয়ামীলীগের অংগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা অবস্থান করছেন সিলেটে। প্রধানমন্ত্রীর সিলেটে আগমনের সুযোগে তৎপরতা চালিয়ে নিজ সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করছেন এ সকল নেতারা। এতে করে যথেষ্ঠ চাঙাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগসহ সকলস্তরের সিলেটবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দেশনেত্রীর জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের জনসভায় লক্ষাধিক লোক সমেবত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সিলেট এসে পৌঁছাবেন। এরপর হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে মদন মোহন কলেজের হীরকজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। পরে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নির্বিঘ্নে করতে গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব, পুলিশ মিলে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। সিলেটজুড়ে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বেশ তোড়জোড় চলছে। নিরাপত্তার সমন্বয় করার জন্য এক বাহিনী অন্য বাহিনীর সাথে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। তবে পুরো সফরে নিরাপত্তা দিকটি সমন্বয় করবে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। তাদেরকে সাহায্য করবে গোয়েন্দা সংস্থা এবং র্যাবের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ইনার কর্ডন, আউটার কর্ডন, রোড ব্যবস্থাপনা, রোফটপ, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও সাদা পোশাকধারী- এই ছয়টি স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ।
এসএমপি সূত্রে জানা যায়, সিলেট মহানগরীর ছয়টি থানার পুলিশ সদস্য ছাড়াও মহানগরীর বাইরে থেকে জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে নিরাপত্তা কাজের জন্য নিয়ে আসা হবে। সবমিলিয়ে পাঁচ সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য পুরো সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। পুলিশের মূল নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল, মদন মোহন কলেজের অনুষ্ঠানস্থল, তাঁর যাত্রাপথ এবং আশপাশের এলাকা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, মেস এবং বাসা-বাড়ির দিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের আশপাশের সকল ভবনে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। এসব ভবনের ছাদে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী আসবেন বৃহস্পতিবার, তার আগের দিন থেকেই তাঁর অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে পুলিশ।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমনের দিন মহানগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। সন্দেহভাজনদের করা হবে তল্লাশি। জনসভাস্থলে আগত জনতার সাথে মিশে গিয়ে কাজ করবেন সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা।
নিরাপত্তার বিষয়ে র্যাব-৯ এর সহকারি পরিচালক এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। তাদের সহযোগি হিসেবে মাঠে থাকবে র্যাব। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। এসএসএফ’র নির্দেশনা অনুসারে র্যাব কাজ করবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামান্যতম ছাড়ও দেয়া হবে না। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন করতে যা যা করা দরকার, তার সবই করবে পুলিশ। ইতোমধ্যেই পুলিশ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আপনার মন্তব্য