নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৩৯

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তোরণ নির্মাণকে নৈতিকতা বিবর্জিত আখ্যা দিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তোরণ নির্মাণ মোটেই ঠিক হয়নি। প্রশাসনের চাপে এ ধরনের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে

আগামী বৃহস্পতিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নগরজুড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন, বিলবোর্ড। নগরীর প্রতিটি সড়কে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করে স্বাগত জানানো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে।

আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারী- আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে তোরণ নির্মাণ করেছে। বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার নামে বিভিন্ন সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তোরণ নির্মাণকে নৈতিকতা বিবর্জিত আখ্যা দিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তোরণ নির্মাণ মোটেই ঠিক হয়নি। প্রশাসনের চাপে এ ধরনের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নগরীর ঘুরে দেখা যায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ ও সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা, জিন্দাবাজার এলাকায় দি এইডেড হাই স্কুল, আম্বরখানা এলাকায় খাসদবির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ এলাকায় বখতিয়ার বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্লু বার্ড স্কুল, জিন্দাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাজাঙ্গাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভাতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করেছে। এভাবে নগরীর অন্তত ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তোরণ নির্মাণ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে দি এইডেড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ এনায়েত হোসেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় আমাদের তোরণ নির্মাণের অনুরোধ করেছেন। তাঁর অনুরোধ তো একপ্রকার নির্দেশই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হলে সিলেটকে অনেককিছু দিয়ে যেতে পারেন, তাই প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে কিছু করার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন বিভাগীয় কমিশনার।

সৈয়দ এনায়েত হোসেন বলেন, তোরণের টাকা স্কুলের ফান্ড থেকেই দেওয়া হবে। তবে যেসব স্কুলের ফান্ড স্বল্প তারা সমস্যায় পড়বে বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষক।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেন, আমরা কাউকে কিছু বলিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তোরণ নির্মাণ করছে। তোরণের ব্যয় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা স্ব উদ্যোগে প্রদান করছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত