১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৪:৪৬
অসহায় দরিদ্র হাওর পাড়ের গ্রাম গুলোর অভিভাবকদের অসচেতনতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে বেহেলী ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত শনির হাওর পাড়ে ইসলামপুর-প্রকাশ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্টিত বিদ্যালয় ভবনটিও ভালো নেই,নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা,নেই টয়লেটও। সব কিছু না থাকার মধ্যে আছেন শিক্ষকরা,তারা প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যান বিদ্যালয়টিতে। অনেক সময় শিক্ষার্থী কম থাকায় হতাশ হন শিক্ষকরা।
সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়,বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষকের সকলেই উপস্থিত ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি একেবারে কম। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোপন কুমার দাস ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীর ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের এক সাথে করে ক্লাস নিচ্ছেন। পাশের আরেকটি রুমে ৩য় শ্রেনীর ক্লাস নিচ্ছেন অনিমা রানী তালুকদার। অন্য দুজন শিক্ষক অবসর সময় কাটাচ্ছেন।
৫ম শ্রেনীতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একবারেই নাজুক মাত্র ৪ জন। ৪র্থ শ্রেনীতে ১১ জন উপস্থিত। গেল কছর সমাপনী পরিক্ষায় মাত্র ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যান্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। এলাকার লোকজন লাকড়ী শুকাতে দিয়েছেন,ভেতরে ময়লা আর দেয়াল, ফ্লোর নড়বড়ে ও ফাটল দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা,টয়লেট আগের থাকলেও বর্তমানে ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী।
গেল অর্থ বছরে উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও মেরামতের স্লিপের ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ পেলেও টয়লেট ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেননী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।
শিক্ষকরা জানালেন, অভিভাবকরা সচেতন না আমরা প্রতিদিন বাড়ী বাড়ী গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আমাদের নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ে নিতে আসি। গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই মৎস্যজীবী ও দারিদ্র কৃষক পরিবার বেশী হওয়ায় পরিবারের কাজে তাদের সময় বেশী দেওয়ার কারনে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। কমিটি ও গ্রামবাসী সচেতন না হতাশায় ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে কম উপস্থিত হয় বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে বেহেলী ইউনিয়নের কর্মরত একটি বেসরকারী সংস্থা বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নগদ ৬ হাজার টাকা ও একটি বুক রেক দিয়েছেন।
ইসলামপুর-প্রকাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরার জানালেন,পানির কল না থাকায় আমরার খুব কষ্ট অয়,তারা আরো জানান,ছেলেরা যে কোন জায়গায় টয়লেট ব্যবহার করতে পারে আমরা মেয়েরা পারিনা,আমাদের টয়লেটটি সংস্কার করে দিলে আমাদের উপকার হবে।
ছাত্রছাত্রী কম উপস্থিতির কারন হিসেবে বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুর্বনা রানী দাস জানান,বেসরকারী সংস্থার বিদ্যালয় গুলোতে শুধু ছাত্রছাত্রী নয় তাদের অভিভাবকদেরও সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান,এই গ্রামেরই ৩০ জন শিক্ষার্থী আছে আমার বিদ্যালয়ে।
ইসলামপুর-প্রকাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া আক্তার জানান,এই দুই গ্রামের অভিভাবকরা সচেতন না,ছাত্রছাত্রীদের আমাদের ডেকে আনতে হয়,নলকুপ ও টয়লেট না থাকায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে।
ক্লাষ্টারের দায়িত্ব রত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,গত বছরের স্লিপের টাকা থেকে বিদ্যালযের আসবাবপত্র মেরামত করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূরুল আলম ভুইয়া জানান,ইসলামপুর-প্রকাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট ও নলকুপের জন্য এই মাসের মধ্যেই জরুরী ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার মন্তব্য