১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৭:১৪
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার নয়াখলা গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখলের চেষ্টা ও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এক জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। জাল দলিল সৃষ্টি করে তারা জায়গা দখল করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ওই পরিবারের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকেশ রায়। সংবাদ সম্মেলনে জায়গার মালিক রণজিৎ দাসসহ ইসকন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নয়াখলা গ্রামের মরহুম আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে জামায়াত কর্মী মুহিবুর রহমানের পক্ষে গত ১১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি আত্মসাত, জোরদখলের অপচেষ্টার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিরীহ সংখ্যালঘু তথা গোটা বিশ্বে প্রশংসিত ধর্মীয় সংগঠন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। যা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার সামিল।
ভুমিখেকো মুহিবুর ভুমির মালিকানা দাবির দীর্ঘ ৩৩ বছর আগেই ওই ভুমির মালিক হন রণজিৎ দাস। রণজিৎ চন্দ্র দাসের দাদা নারায়ণ চরণ দাশ ১৯৪৭ সালের ২৩ জুলাই দলিলমুলে ওই ভুমি ক্রয় করেন । ফলে ওই ভু-সম্পত্তি রণজিৎ দাসের মৌরসী। অথচ মুহিব সবকিছু আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৮০-৮১ সালে গোপনে মুহিব ২টি জাল দলিল করেন। অথচ ১৯৪৭ সালের ২৩ এপ্রিল শ্রীহট্ট স্টেশন ও কানাইঘাট সাবরেজিস্ট্রার স্টেশনের অন্তর্গত সাং চাউরা মৌজা নয়াখলাস্থিত ১১৫/১১৬/২১৭/২১৬ দাগের মোট ২বিঘা ১৪ কাঠা জমির মালিক হন রণজিৎ দাসের পূর্বসুরিরা। পরবর্তীতে ১৯৮০-৮১ সালের ১০৫ নং নামজারী মোকদ্দমা মুলে ও ১৯৫৬ সালের এসএ রেকর্ড মুলে ভুমির মালিক হন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের সেটেলমেন্ট (এসএ) জরিপেও ক্রয়সুত্রে ও উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত ভুমি রণজিৎ দাসদের নামে রেকর্ড হয়েছে। রণজিৎ দাসরা বংশ পরম্পরায় তাদের মৌরসী, পৈত্রিক ভুমির বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তিনটি পাকা বাড়ি ও রাস্তা রয়েছে নিজস্ব ভুমির উপর।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জামায়াতের মুহিবুর রহমান একজন চিহ্নিত অপরাধী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলেন। একারণে দু’দফা হামলার ঘটনায় মামলা করেও সুবিচার পাননি রণজিৎ দাসের পরিবার। অথচ মুহিবুর ও তার বাহিনী বর্তমান সরকারবিরোধী জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, গ্রেফতার হয়ে জেলেও ছিলেন। নিরীহ সংখ্যালঘুদের হয়রানি, ভুমি দখলের অপচেষ্টা, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত মুহিবুরের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার দাবি করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসকনের ব্রজকৃষ্ণ ব্রক্ষ্মচারী, সিদ্ধ মাধব দাস প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য