নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ

১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ২০:০৪

বাড়ছে প্রাকৃতিক মধু উৎপাদন

কমলগঞ্জে দারিদ্র ঘোচাতে মৌমাছি চাষাবাদে সাফল্য

বনাঞ্চল অধ্যূষিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকায় মৌমাছি চাষাবাদ হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে দৃষ্টির অন্তরালে থেকেই এসব এলাকায় অনেকেই মৌ চাষাবাদে মধু উৎপাদন করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে মৌমাছি চাষাবাদ করে বেকারত্ব দূরীকরণ ও আয়ের একটি সহজ পথ হিসাবে বেঁচে নেয়া হয়েছে। উপজেলার আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ জন লোক মৌমাছি চাষাবাদে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মধু উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এই মধু বাজারজাত করে মৌচাষীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি মৌমাছি চাষাবাদকৃত এসব এলাকা ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
    সরেজমিনে দেখা যায়, ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন প্রাকৃতিক উপায়ে মধু উৎপাদনে মৌমাছি চাষাবাদে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাহাড়ি বন থেকে রানী মৌমাছি সংগ্রহ করলেই হাজারো মৌপোকা সংগ্রহ করা সম্ভব। এভাবে মৌমাছি চাষে দক্ষ ব্যক্তিরা পাহাড়ি বন থেকে মৌমাছি সংগ্রহ করে এক একটি বাক্স তৈরি করে মৌ-চাষাবাদ করছেন। বাক্সে চাষাবাদকৃত মৌ পোকা ফুল থেকে যে মধু আহরণ করে বছরে তিন থেকে চার বার সেই মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারেও রয়েছে এই মধুর যথেষ্ট চাহিদা। এই মধু বিক্রি করে চাষীরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম মৌমাছি চাষী কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া বলেন, ‘মৌমাছি মৌমাছি কোথাও যাও নাচি নাচি’ কবিতার এই চরণকে মনে রেখেই ১৯৯৮ সন থেকেই মৌমাছি সংগ্রহ করে চাষাবাদ শুরু করেন। পাহাড় থেকে রানী মৌমাছি সংগ্রহ করলে এর সাথে হাজারো মৌমাছি চলে আসে। এরপর তাদের একটি বাক্সে রেখে দিলেই চলে। এক একটা বাক্সে বছরে চার বারে ৩০ থেকে ৪০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ৭শ’ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আজাদ মিয়া আরও বলেন, তিনি মৌমাছি চাষাবাদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। বর্তমানে তাঁর ১০টি বাক্সে মৌ পোকা চাষাবাদ চলছে। এই ১০টি বাক্স ছাড়াও পাহাড় থেকে মৌমাছি ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয়। তিনি বলেন, মৌ পোকা চাষাবাদের চেয়ে উন্নতমানের আর কোন চাষাবাদ নেই। মৌ পোকা চাষাবাদে শুরুতেই শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া আর কোন খরচ পড়ে না। এভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ায় ক্রমাম্বয়ে মৌমাছি চাষীর পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ, কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাও, কানাইদাশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরানবাড়ি, নয়াপত্তন সহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ জন মৌমাছি চাষি রয়েছেন এবং তারা প্রত্যেকেই সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। এই সকল মৌ পোকা চাষিদের নিয়ে ‘কমলগঞ্জ উপজেলা মধু চাষী উন্নয়ন সমিতি’ গঠন করা হয়েছে।
    রাজ মৌ, দাশকুলি মৌ, মাছি মৌ, ঘামি মৌ ও মৌ মালতি এই ৫ জাতের মৌমাছি হলেও কমলগঞ্জে বাক্স স্থাপন করে দাশকুলি মৌমাছি  চাষাবাদই সবচেয়ে বেশী। বছরে এই উপজেলা থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কেজি মধু আহরন করা হয়। কমলগঞ্জে মধু চাষী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এই এলাকায় মৌমাছি চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পুঁজির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হলে মৌমাছি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
    কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা লেখক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকায় চিহ্নিত জোন হিসাবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষত আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মৌমাছি চাষাবাদে একটা ব্র্যান্ড তৈরী হতে পারে।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত