২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০১
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদই জোটের প্রার্থী। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, এ আসনটি জোটের পক্ষ থেকে মজলিসকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজুই এ আসনের জোটের প্রার্থী।
দুই দলের এই বিপরীত প্রচারে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন কর্মীরা।
গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনের পর জানা যায়, সিলেটের ১০ টি আসনে জামায়াত নেতারাই জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যার মধ্যে সিলেট-৩ আসনও রয়েছে।
তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেনি এইর জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। পরদিন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেয় দলটি। ফলে ১১ দলীয় জোট পরিণত হয় ১০ দলীয় জোটে।
জোটে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্ধ রাখা ৫০টি আসন বন্টন নিয়েও দেখা দেয় নতুন করে টানাপোড়েন। এরফলে অনেক আসনেই প্রার্থী ওলটপালট হতে পারে বলে জানা গেছে। এ কারণেই সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী বদলের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফেসবুক পেজ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তবে জামায়াত ইসলামের সিলেটের এক দায়িত্বশীল নেতা সিলেটটুডেকে জানিয়েছেন, এ আসনে লোকমান আহমদই জোটের প্রার্থী হবেন তা দল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। তবে জোট থেকে চুড়ান্ত ঘোষণা আজ (মঙ্গলবার) আসতে পারে।
লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেটের যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন তার মধ্যে সিলেট-৩ আসন অন্যতম।
অপরদিকে, মুসলেহ উদ্দীন রাজু সিলেটের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদীস নুরউদ্দিন আহমদ গহরপুরীর ছেলে। বালাগঞ্জের গহরপুর মাদ্রাসার সাবেক এই প্রিন্সিপাল কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন। রাজুও এই বোর্ডের কর্মকর্তা। ফলে কওমী ঘরণায় রাজুর বড় প্রভাব ও ভোটব্যাংক রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে, এই আসনটি উন্মক্ত রাখার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
আপনার মন্তব্য