নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৫:১১

শহীদ মিনারে আনা হবে রনজিত দাসের মরদেহ, রাতেই শেষকৃৃত্য

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ সোমবার রাতে সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে আনা হবে ফুটবলার রনজিত দাসের মরদেহ। রাতেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

রনজিত দাসের পরিবারের বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ।

এরআগে সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিলেটের তালতলা এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিংবদন্তি ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক রনজিত দাস। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

মোস্তাক আহমদ জানান, রাত ৮টার দিকে রনজিত দাসের মরদেহ সিলেট কেন্দিয় শহীদ মিনারে আনা হবে। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখান থেকে চালিবন্দর মহাশশ্মান ঘাটে নিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

এরআগে পরিবার ও স্বজনদের দেখার জন্য মরদেহ আখালিয়ায় নিজ বাসায় রনজিত দাসের মরদেহ রাখা হবে বলে জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই রণজিত দাস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি সর্দি–কফ দেখা দিলে তাকে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় নগরের চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

সিলেটের বাসিন্দা রণজিত দাস স্বাধীনতা-উত্তর এ উপমহাদেশের ক্রীড়াবিশ্বে অর্জন করেন বিপুল সম্মান ও খ্যাতি। এই গুণী খেলোয়াড় ফুটবলার হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি অর্জন করেন। এ ছাড়া হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও খ্যাতি ছিল তার। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তার জন্ম হয়। তিনি পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।

রণজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি দুবার পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

ফুটবলারের পাশাপাশি একজন হকি খেলোয়াড় হিসেবেও রণজিত দাসের যশ ও সুনাম ছিল। পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল, প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা খেলায় অংশ নেন।

খেলাধুলার পাশাপাশি একজন ক্রীড়াসংগঠক হিসেবেও রণজিত দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

রণজিত দাস ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) নামে তার একটি স্মৃতিচারণমূলক বইও প্রকাশিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত