সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ০১:৪৬

সিলেট প্রেসক্লাবের প্রাণবন্ত অভিষেক ও ফ্যামিলি নাইট অনুষ্ঠিত

সিলেটের সাংবাদিকতার শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্মারক সিলেট প্রেসক্লাবের প্রাণবন্ত অভিষেক ও ফ্যামিলি নাইট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, সিলেটের সংবাদ মাধ্যম বেশ সমৃদ্ধ। সিলেটে এমন কিছু সাংবাদিক ও সম্পাদক ছিলেন যারা অত্যন্ত সাহসের সাথে দেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর জন্য আমরা গর্ববোধ করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে সংবাদ মাধ্যম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে তরান্বিত করে। কারণ, সরকার অনেক সময় অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যায়। যে কারণে নিজের ভুল নিজের চোখে পড়ে না। সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

অর্থমন্ত্রী ব্রিটিশ শাসনকালীন সময়ে সিলেটের সম্পাদক ও প্রকাশক মকবুল হোসেন, হাসান শাহরিয়ার ও আব্দুল মতিনের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা অত্যন্ত সাহসী সাংবাদিকতা করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও তারা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এদের জন্য আজকের সাংবাদিকগণ গর্ববোধ করতে পারেন। অর্থমন্ত্রী নিজেও এজন্য গর্ববোধ করেন বলে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী সিলেটের সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের কষাঘাত অত্যন্ত শক্তিশালি। তাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদেরকে আরো সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করে। দেশের প্রয়োজন ও সমস্যা চিহ্নিত করে উন্নয়নের লক্ষ্যে জনমত গঠনে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান অর্থমন্ত্রী।

সিলেট প্রেসক্লাব অভিষেক কমিটি ২০১৬ এর আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন, লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাওয়ার্ড ডবার, ব্রিটিশ এমপি স্টিফেন স্টিমস, জন রিড এমপি।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান আহমেদ নূর।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাঈদ মো. নোমান ও গীতা পাঠ করেন সহ-সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতার পূর্বে সিলেট প্রেসক্লাবের অভিষেক স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এরআগে ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য অর্থমন্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল আহাদের পরিচালনায় দেশের খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী সিলেটের কৃতি সন্তান আশিক, স্থানীয় শিল্পী লাভলী দেব, শামীম আহমদ ও বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের রেডিও এনাউন্সারস ক্লাব (র‌্যাংক) এর সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন।

প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. একে মোমেন বলেন, মিডিয়া অনেক শক্তিশালী মাধ্যম। সাংবাদিকরা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কাজ করেন। সিলেট প্রেসক্লাবে যারা নতুন কমিটির দায়িত্ব নিলেন তাদেরও অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

ড. মোমেন দেশে ও বিদেশে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বলেন, মিডিয়ার অনেক ধরণের প্রচারের কারণে বিশ্বে সংঘাত-সহিংসতার সৃষ্টি হয়। সিলেটের সাংবাদিকদের এ বিষয়টি অত্যন্ত সচেতনভাবে দেখতে হবে। তিনি যেকোনো ঘটনার সমালোচনার পাশাপাশি সংঘাত-সংঘর্ষের পেছনের খলনায়কদের চিহ্নিতকরণে মিডিয়াকে সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে সিলেটের সাংবাদিকদের অংশীদার হওয়ার জন্য লেখনীর মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাওয়ার্ড ডবার বৃটেনে সিলেটী প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বৃটেনে বাঙালি কমিউনিটি অত্যন্ত শক্তিশালি। তারা সেখানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন।

তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সিলেটী এমপি রোশনারা আলীসহ তিন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তারা দেশের কথা চিন্তা করেন।

বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এদেশের অর্থনীতি এখন বেশ শক্তিশালি অবস্থানে রয়েছে। এটি সরকারের বড়ধরণের একটি সাফল্য। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। ব্রিটিশ এমপিগণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র জোরদারকরণে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, অর্থমন্ত্রীর আলোকিত সিলেটের স্বপ্নের সাথে সাংবাদিকগণও আলোকিত হতে চায়। অর্থমন্ত্রীর হাত ধরে যেভাবে সিলেটের বিভিন্ন সেক্টর আলোকিত হচ্ছে। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবের বহুতল ভবন পূর্ণাঙ্গ করা, সিলেটে পিআইবি’র শাখা খোলা ও সিলেটের সাংবাদিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্বাগত বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নূর বলেন, সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাস দেড়শতাধিক বছরের। এ পেশায় সিলেটের অনেকে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। তাদের পথচলায় সিলেট প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।

সিলেট প্রেসক্লাব মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রেখেছে উল্লেখ করে আহমেদ নূর বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিলেট প্রেসক্লাব প্রথম মিছিল করেছিল। এখানে নানা মতের মানুষ থাকলেও জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সিলেট প্রেসক্লাব সবসময়ই সচেষ্ট ছিল এবং আমাদের অবস্থান সবসময়ই সুস্পষ্ট রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ১৯৬৫ সালে সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়। হাটিহাটি পা পা করে এই প্রেসক্লাব আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। সাধারণ মানুষের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল এটি।

তিনি বলেন, সমাজ আজ দুর্বৃত্তায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সাংবাদিকদের মধ্যেও এটা ঢুকে পড়ছে। তবে, সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্যরা এ থেকে মুক্ত রয়েছেন। এই ক্লাবের সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রেসক্লাব কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান ইকবাল সিদ্দিকী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত