সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৬:০৯

প্রবীণ লোক সংগীতশিল্পী সুষমা দাসের বাসায় সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

বৃহত্তর সিলেটের প্রবীণ লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাসের সংগীত প্রতিভাকে তুলে ধরতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি ছুটে গেলেন সুষমা দাসের সিলেটস্থ হাওলদার পাড়া মজুমদার পল্লীর বাসায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি সিলেট সার্কিট হাউস থেকে সুষমা দাসের বাসায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন।

তিনি সুষমা দাসের সংগীত সাধনা ও দীর্ঘ প্রায় ৯০ বছর বয়সী এই প্রবীণ শিল্পীর সংগীত জীবনের খোঁজ খবর নেন। তিনি সুষমা দাসের একান্ত ইচ্ছানুযায়ী তাঁর পছন্দের গান সংরক্ষণের জন্য তাঁকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান এবং তার পছন্দের গান অতি দ্রুত সংরক্ষণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সুষমা দাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের সহযোগিতার কথা বলেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার শাহ্‌ আবদুল করিমের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সুষমা দাসের গান শুনেন। তিনি সুষমা দাসের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে মঞ্চে গিয়ে সুষমা দাসের পায়ে ছুঁয়ে সম্মান করেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি সুষমা দাসকে একজন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লোক সংগীতশিল্পী হিসেবে মনে করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সংগঠক রজতকান্তি গুপ্তকে সাথে নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সুষমা দাসের বাসায় যান।

এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

সুষমা দাসের পরিবারে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সংস্কৃতি মন্ত্রীকে পেয়ে সুষমা দাস খুবই পুলকিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবি ও গবেষক সুমনকুমার দাস, নাট্যকর্মী স্বপন বর্মণ, সুষমা দাসের সন্তান শংকর দাস, প্রবীর রঞ্জন দাস, প্রশান্ত দাস, মেয়ে কনকা দাস, পুত্রবধূ দিপীকা রানী দাস।

সুষমা দাসের ২য় পুত্রের ছোট মেয়ে নিবেদিতা দাস রিন্তী এসময় সুষমা দাসের লিখা ও সুর করা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রচিত গান সংস্কৃতি মন্ত্রীকে গেয়ে শুনান। তার গান শুনে মন্ত্রী সুষমা দাসের প্রতিভার আন্তরিক প্রশংসা করেন।

সুষমা দাস সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রশিক লাল দাসও গান লিখতেন। সুষমা দাস অজস্র হরি জাগরণের গান, গোপিকা কীর্তন, ঘাটু গান, ধামাইল গান, বিয়ের গান, হরিগান, কবি গান ও বাউল গান গেয়ে থাকেন।

তার ছোট ভাই পণ্ডিত রামকানাই দাস ২০১৪ সালের ২১শে পদকপ্রাপ্ত হন।

সুষমা দাস পণ্ডিত রামকানাই দাসকে এককভাবে প্রায় তিন শতাধিক রাধারমণের গান এবং ভেসে আসা সুর দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। সুষমা দাস দলীয় গান থেকে একক শিল্পী, বেতার থেকে স্টেজে গান গেয়েছেন।

সুষমা দাস বাংলা একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, ঢাকার ছায়ানট, রমনার বটমূলে বিভিন্ন সময়ে গান পরিবেশন করেন। তাছাড়া ভারতের সংগীত গবেষক মৌসুমী ভৌমিকের আমন্ত্রণে এককভাবে রাধারমণ দত্তের গান পরিবেশন করেন। তিনি ভারতের যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যক্ষের আমন্ত্রণে ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

দীর্ঘ সংগীত জীবনের অধিকারী সুষমা দাস একজন অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির সাদা মনের মানুষ। বর্তমানে তিনি সিলেটের সবচেয়ে প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সংগীত শিল্পী হিসাবে এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করে যাচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত